ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

রবিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের দেশ। প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা সাংবিধানিক অধিকার।

এই অধিকার রক্ষা এবং সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এ বছর পূজা উপলক্ষে সরকারি অনুদান, ছুটি এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে রিজভী অভিযোগ করেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে।

গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রিজভীর কথায়, ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও দেশের নাগরিক হিসেবে সবার জাতীয় পরিচয় অভিন্ন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীম এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সহসম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন। এ ছাড়া পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।