পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শেখ হাসিনার আমলের বাংলাদেশের প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান শেখ আবদুল হান্নানকে কাতার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে গত ১৫ অক্টোবর ইন্টারপোলের সাহায্যে কাতার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। কাতার পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর বর্তমানে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তারেক সরকার।
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগ, অবসরপ্রাপ্ত এই বায়ুসেনা প্রধান আয়ের বৈধ উৎসের বাইরে ৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকারও বেশি অবৈধ সম্পত্তি অর্জন করেছেন।

নিজের ছ’টি ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিনি ২৭ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। দুর্নীতির এই তালিকায় নাম রয়েছে তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমেরও। তাঁর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯১ লক্ষ টাকার অবৈধ সম্পত্তি এবং ৩২টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১ কোটি ১৮ লক্ষ টাকার বেনামি লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বিদেশেও বিপুল সম্পত্তি বানিয়েছেন হান্নান। কানাডা ও দুবাইয়ে টাকা পাচার করার পাশাপাশি তিনটি দেশে তাঁর ছেলে-মেয়েদের নামেও সম্পত্তির সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগ দেওয়া আবদুল হান্নান, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সালের ১১ জুন পর্যন্ত বায়ুসেনার প্রধান ছিলেন। এই বিপুল দুর্নীতির কারণে গত বছরের ১১ নভেম্বর আদালত তাঁর দু'টি ফ্ল্যাট বাজেয়াপ্ত এবং ১০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ দেয়। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে দুর্নীতি দমন শাখা তাঁর বিরুদ্ধে দু'টি মামলা দায়ের করে। ওই বছরের মে মাসে আদালত তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ৩৮টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করাসহ সমস্ত জমি, ফ্ল্যাট ও বাড়ি বাজেয়াপ্ত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছিল। তাঁর বিদেশ যাওয়ার উপর আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে দেশ ছেড়ে কাতার পালিয়ে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশানের অন্দরে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।