পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পুজোর মরশুমে সংসারে বাড়তি উপার্জনের আশায় প্রতি বছরের মতো এবারও হুগলির গোঘাট থেকে কলকাতায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজে এসেছিলেন রাজেশ পাল। কিন্তু চোরবাগান মণ্ডপে মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার পর পুলিশের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছে তাঁর পরিবার। হুগলির ভগবানপুরের বাসিন্দা রাজেশের বাড়িতে এই খবর পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর বাবা-মা। তাঁরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও আইনানুগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


দিনমজুর পরিবারের সন্তান রাজেশ মূলত আর্থিক অনটন সামাল দিতেই পুজোর সময় শহরে কাজ করতে আসতেন। তাঁর বাবা জিতেন পাল জানান, ঘটনার পর থেকে ছেলের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তাঁরা। পরে রাজেশের সঙ্গে কলকাতায় কাজ করতে আসা অন্যান্য সঙ্গীদের মাধ্যমে এই গ্রেপ্তারির খবর জানতে পারেন। রাজেশের মা জানিয়েছেন, ওইদিন রাত দেড়টা নাগাদ বাবার ফোনে নিজের একটি ছবি পাঠিয়েছিল রাজেশ।
তারপর ঠিক কী ঘটেছে, তা তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না।
পরিবারের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মণ্ডপে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কেন একজন সামান্য নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হল? সরকারের কাছে রাজেশের বাবা-মায়ের কাতর আর্জি, ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনা হোক এবং তাঁদের ছেলে যেন সুস্থভাবে ঘরে ফিরে আসে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে চোরবাগান মণ্ডপ থেকে বেরোনোর সরু গেটে দর্শনার্থীদের প্রবল ভিড় আছড়ে পড়ে। মণ্ডপের ভিতরে মানুষের চাপ আচমকা বেড়ে যাওয়ায় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর তদন্তে নেমে পুলিশ এখনও পর্যন্ত মোট সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাঁদের অন্যতম হলেন গোঘাটের রাজেশ।