উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : বয়সের ভারে অনেকের পক্ষেই আর আগের মতো পুজোর মণ্ডপে ঘুরে ঘুরে প্রতিমা দর্শন করা সম্ভব হয় না। অথচ শারদোৎসবের দিন গুলিতে মায়ের প্রতিমা দেখার ইচ্ছা থাকে তাঁদেরও। প্রবীণ মানুষদের সেই ইচ্ছেপূরণে এগিয়ে এল বহড়ুর শান্তিপীঠ মন্দির কমিটি। অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও মহাসপ্তমীর দ্বিতীয় সন্ধ্যায় বহড়ুর কামদেবনগর, মিঠানীমল্লভপুর সহ আশপাশের এলাকার দেড় শতাধিক বয়স্ক মানুষকে পুজো মণ্ডপে ঠাকুর দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।শান্তিপীঠ মন্দির কমিটির উদ্যোগে এদিন ২৫টি টোটোয় চেপে প্রবীণ মানুষজন বহড়ু ও জয়নগর এলাকার একাধিক পুজো মণ্ডপ ঘুরে প্রতিমা দর্শন করেন।
তাঁদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি টিফিন ও খাবারের ও আয়োজন করা হয়েছিল। পুজোর আনন্দে শামিল হতে পেরে খুশি এলাকার প্রবীণ নাগরিকেরা।এই মহতী উদ্যোগের মূল উদ্যোক্তা শান্তিপীঠ মন্দির কমিটির পক্ষে স্থানীয় বহড়ু ক্ষেত্র গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা তথা সদস্য ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন জয়নগর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি সেচ সমবায় দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু মালিক সহ শান্তিপীঠ মন্দির কমিটির একাধিক সদস্য।এ প্রসঙ্গে উদ্যোক্তা ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল বলেন, “গত কয়েক বছর ধরেই আমরা এলাকার বয়স্ক মানুষদের ঠাকুর দেখানোর ব্যবস্থা করে আসছিঅনেকেরই ঠাকুর দেখার ইচ্ছা থাকলেও বয়সের কারণে তা আর হয়ে ওঠে না। সেই কথা মাথায় রেখেই মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এভাবেই কাজ করে যেতে চাই।”উৎসবের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার এই উদ্যোগে এদিন খুশির পরিবেশ তৈরি হয় এলাকায়।বয়সের বাধা পেরিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে টোটোয় চেপে একের পর এক পুজো মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন করতে পেরে আনন্দিত প্রবীণ মানুষ জন। তাঁদের মুখের হাসিই উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগের সার্থকতা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।