আবদুল ওদুদ: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে অভিহিত করে তিনি অবিলম্বে দুই নেতার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মমতা বলেন, আশুতোষ ও সৌরভের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর পেছনে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হানার উদ্দেশ্য রয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিও জানান তিনি। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের সতর্ক করে মমতা বলেন, আজ যাঁরা ক্ষমতায় রয়েছেন, কাল তাঁরা ক্ষমতায় থাকবেন না।

কলকাতা থেকে দিল্লি, এমনকি মুম্বাইয়েও দমন-পীড়নের ঘটনা বাড়ছে বলে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, গোটা দেশেই অত্যাচারের মাত্রা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীরাও অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু দৃঢ় বিশ্বাস ও সাহস নিয়ে তাঁরা সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছিলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাস’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের মদতেই এই দমন-পীড়ন চলছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধের চেষ্টা দীর্ঘদিন চালানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, মানুষ যখন দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে রাস্তায় নামবেন, তখন ক্ষমতাসীনদের অহংকার ভাঙবে। তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষেরই জয় হবে এবং গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির পরাজয় ঘটবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মমতা সরাসরি আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের মুক্তির দাবি জানান। গণতন্ত্রের প্রতি ন্যূনতম আস্থা থাকলে তাঁদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিজেপি নেতাদের হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং তাঁদের মুক্তির দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।