পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শিক্ষাক্ষেত্রে বেহাল পরিকাঠামো এবং লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে চরম আকার ধারণ করেছে ফ্রান্সের গণবিক্ষোভ। রাজধানী প্যারিস-সহ দেশের অন্তত ৪০টি শহর এখন বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্যারিস-সহ পাঁচটি শহরে রাত আটটা থেকে সকাল ছ'টা পর্যন্ত কড়া কারফিউ জারি করেছে ফরাসি প্রশাসন। আর এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের এই অশান্তির জন্য সরাসরি মুসলিম অভিবাসীদের দায়ী করে তীব্র তোপ দেগেছেন।
গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি হাই স্কুলে শিক্ষক সংকটের জেরে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে শিক্ষা সংকট এবং মাত্রাছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও বর্তমানে তা চরম হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে। রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তিন লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া। অভিযোগ, প্রতিবাদের নামে বিক্ষোভকারীরা যথেচ্ছ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছেন। গত শনিবার লিমোজ শহরের ১৪০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী টাউন হল বিক্ষোভকারীদের আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ রাস্তায় নেমে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাচ্ছে। পুলিশি অভিযানে ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অস্থিরতার জেরে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সরকার তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি।
ফ্রান্সের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির নেপথ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি মুসলিম অভিবাসীদেরই দুষেছেন। তাঁর দাবি, সীমান্ত পেরিয়ে আসা মুসলিম অভিবাসীরাই ফ্রান্সে ঢুকে এই ধরনের সমস্যা তৈরি করছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে তিনি অনেক আগেই সীমান্ত বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানান ট্রাম্প। তাঁর কথায়, খুব তাড়াতাড়ি প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হতে চলেছে এবং ফ্রান্সে আজ যা ঘটছে তা সম্পূর্ণভাবে ওই অভিবাসীদেরই ফল। যদিও ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বা বর্তমান পরিস্থিতির জেরে ফ্রান্সের সীমান্ত এখনও বন্ধ করা হয়নি।