পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আসামের নগাঁও জেলার লুটুমারী লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬০০-র বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিল রাজ্য সরকার। সরকারের দাবি, বনাঞ্চলের জমি বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল। রবিবারেও অব্যাহত থাকা এই অভিযানের ফলে রাজ্যজুড়ে বড় ধরনের বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সরকারি তথ্য ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযানে নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলা মিলিয়ে হাজারেরও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বড় একটি অংশই মূলত বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়ের।
আরও পড়ুন:
লুটুমারী এলাকার উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলি প্রশাসনের ‘জবরদখলকারী’ বা এনক্রোচার তকমা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে দাবি করেছে, তারা গত কয়েক দশক ধরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় ৩০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে বসবাস করে আসছে। আব্দুল নূর (৪৪) নামে এক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষরা ভূমিহীন হওয়ায় ১৯৭৪ সালে তৎকালীন সরকারই তাঁদের এই অঞ্চলে পুনর্বাসন দিয়েছিল। প্রায় ৩০০টি ভূমিহীন পরিবারকে ৪ বিঘা করে জমি দেওয়া হয়েছিল। অধিবাসীদের দাবি, তাঁরা বন বিভাগের অধীনে দীর্ঘদিন শ্রমিকের কাজও করেছেন।
আরও পড়ুন:
উচ্ছেদ হওয়া অধিবাসীরা আরও অভিযোগ করেছেন, এই অভিযানের সময় অন্তত ১০টিরও বেশি প্রাচীন মসজিদ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটির বয়স ৫০ বছরেরও বেশি।
স্থানীয় অধিবাসীরা এই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে গুয়াহাটি উচ্চ আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন, তবে সেখান থেকে আইনি স্থগিতাদেশ বা স্বস্তি মেলেনি।আরও পড়ুন:
গত জুন মাসেই 'অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিপল' আসাম সরকারের কাছে এই উচ্ছেদ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, কান্দর্প লংজাপ, পদুমনি, হাতিজুড় এবং ৯ নম্বর খেরোনি—এই চার গ্রামের বাসিন্দারা ঔপনিবেশিক আমলের ‘টাউঙ্গিয়া’ বন ব্যবস্থাপনা কাঠামোর অধীনে এখানে বাস করছিলেন। এই প্রথায় বাণিজ্যিক বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি চাষবাস ও বন বিভাগের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হতো। ফলে তাঁদের সাধারণ জবরদখলকারী হিসেবে বিবেচনা করা অনুচিত।