পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২০১৭ সালের এক হাই-প্রোফাইল হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির সাজা ও জামিন মঞ্জুর করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে অথবা বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক—আদালতে তাঁর আইনজীবী এই মর্মে আবেদন জানানোর পরই হাইকোর্ট এই সাজা স্থগিতের ঐতিহাসিক নির্দেশ দেয়।
আরও পড়ুন:
বিচারপতি সিদ্ধার্থ এবং বিচারপতি বিনয় কুমার দ্বিবেদীর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ নন্দলাল রাই ওরফে বাবলু রাইয়ের ফৌজদারি আপিলের শুনানির পর ৫ অক্টোবরের আদেশে এই নির্দেশ পাস করে। এর আগে ২০২৫ সালে বারাণসী সেশন কোর্ট ২০১৭ সালের একটি খুনের মামলায় (সিগ্রা থানা) নন্দলালকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
আরও পড়ুন:
আদালত লক্ষণীয়ভাবে উল্লেখ করেছে, সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার আগে আপিলকারী নন্দলাল রাই একজন সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মী ছিলেন।
পর্যবেক্ষণে এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানায়, "একজন সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনই একজন রাজনীতিকের নির্বাচনে লড়ার অধিকারও তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। চূড়ান্ত রায়ের জন্য মামলাটি বিচারাধীন থাকাকালীন আপিলকারীর বেঁচে থাকার ও রাজনীতি করার সুবিধার্থে এই সাজা স্থগিত রাখা যুক্তিযুক্ত।"আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ঘটনাটি ২০১৭ সালের, যেখানে বারাণসীর সিগ্রা এলাকায় রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য প্রমোদ কুমার নিগমকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ উঠেছিল, গ্যাংস্টার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া প্রয়াত মুখতার আনসারীর অনুগামী ছিলেন নন্দলাল রাই এবং সামান্য এক বিবাদের জের ধরে নিগমকে খুন করা হয়।
আরও পড়ুন:
এলাহাবাদ হাইকোর্ট তার নির্দেশে ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের বহুল আলোচিত ‘আফজাল আনসারী বনাম উত্তরপ্রদেশ রাজ্য’ মামলার রায়ের নজির উল্লেখ করেছে। শীর্ষ আদালতের সেই নীতি এবং বর্তমান প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই হাইকোর্ট জানিয়েছে, চূড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নন্দলাল রাইয়ের নিম্ন আদালতের সাজা কার্যকর থাকবে না।