চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আয়োজকদের দাবি, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও সরকারপ্রধান জে এম সেন হলে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন। মঙ্গলবার রাত সোয়া আটটার দিকে দলীয় নেতা-কর্মী ও মন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মণ্ডপে যান। এ সময় পূজা উদ্‌যাপন কমিটির হাতে ২০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সামরিক বিমানে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়-সহ অন্যান্য নেতা ও মন্ত্রীরা।

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিখিল কুমার নাথ জানান, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমান জে এম সেন হলে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। এর আগে ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ওই হলে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।

পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সকলের। আমরা যেই ধর্মের হই না কেন, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।

” তাঁর কথায়, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে দেশের সব মানুষের প্রধান পরিচয় তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার জন্য যাঁরা জীবন বাজি রেখেছিলেন, তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। একইভাবে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনেও ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে রাজপথে নেমেছিলেন। সেখানেও কে কোন ধর্মের, তা দেখা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ বা আহত ব্যক্তিদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয়নি। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মের ভিত্তিতে কোনও ভেদাভেদ করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু কোনও বিষয় নয়। বিষয় একটাই—আপনি বাংলাদেশি।” তিনি আরও বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে সবার সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০২৪—দুই সময়ের সংগ্রামের লক্ষ্য ছিল এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সব মানুষ শান্তিতে ও মিলেমিশে বসবাস করতে পারবেন। সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-সহ সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।