পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সেনেট লড়াইয়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে পৌঁছেছে। গত শনিবার মিশিগানের কারে শহরে আয়োজিত এক টাউনহল সভায় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদকে এক দর্শকের তীব্র জেরার মুখে পড়তে হয়। সভায় এক ব্যক্তি চিৎকার করে তাঁর কাছে জানতে চান যে, তিনি ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ আন্দোলনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কট করবেন কি না। এর জবাবে এল-সায়েদ ওই আন্দোলনকে অস্বীকার করার পাশাপাশি প্রশ্নকর্তারও কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁর মধ্যে ‘দ্বৈত আনুগত্য’ বা মার্কিন সংবিধানের প্রতি অবিশ্বাসের সন্দেহ খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ক্ষুব্ধ এল-সায়েদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁর কাছে একমাত্র পথপ্রদর্শক হলো আমেরিকার সংবিধান। তাঁর এই বক্তব্যের পর উপস্থিত জনতা হাততালি দিয়ে তাঁকে সমর্থন জানান এবং ওই প্রশ্নকর্তা সভা ছেড়ে চলে যান।
মিশিগানের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেনেট আসনে এল-সায়েদের সঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। সম্প্রতি এক নির্বাচনী প্রচারণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এল-সায়েদের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষ করে তাঁকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দেন এবং তাঁর নাম ভুলভাবে উচ্চারণ করেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি এল-সায়েদকে সরাসরি সন্ত্রাসী বলেননি।
তবে তাঁর কট্টর আদর্শ এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তাঁর পরিবারের অতীত যোগাযোগের বিষয়টিকে তিনি বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন। রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ও রিপাবলিকানদের দাবি, এল-সায়েদের পরিবারের একাংশ অতীতে এই ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মিসরে জন্ম নেওয়া ইসলামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ ঐতিহাসিকভাবে সহিংসতা পরিহারের কথা বললেও, আমেরিকায় তাদের বিভিন্ন শাখা নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্ক রয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এই ইস্যুটি মিশিগানের ভোটারদের মধ্যে বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।