পুবের কলম, মুম্বই: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চুক্তি সম্পন্ন করতে আর মাত্র কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তি করা বাকি রয়েছে। মঙ্গলবার মুম্বইয়ে এমনই আশার কথা শোনালেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। চলতি বছরে দ্বিতীয়বার ভারত সফরে এসে তিনি জানান, দুই দেশ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। শীঘ্রই এ বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তিনি।

রুবিও বলেন, “বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করে না মার্কিন বিদেশ দফতর। তবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমরা নিবিড়ভাবে যুক্ত। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যতটা কাছাকাছি পৌঁছনো সম্ভব, আমরা এখন সেই পর্যায়ে রয়েছি।

চূড়ান্ত করতে অল্প কয়েকটি বিষয় বাকি আছে। আশা করছি, শীঘ্রই সেগুলির নিষ্পত্তি হবে।” খুব তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে সুখবর দেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাশিয়ার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের পর রুবিওর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে তা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ সংক্রান্ত একটি চুক্তির কথা ঘোষণা করেছিলেন। আমেরিকায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সামাল দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের নীতির সঙ্গে সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পার্থক্য লক্ষ করা যাচ্ছে।

ভারত, চিন-সহ কয়েকটি দেশের উপরও সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল। ওই পদক্ষেপ কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হতে পারত।

এর আগে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনার সমালোচনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গত বছর ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের অন্যতম কারণ হিসেবে রুশ তেল আমদানির বিষয়টি তুলে ধরেছিল ওয়াশিংটন। তবে পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়।

রুবিও সোমবার জানিয়েছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কিছু ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিবেচনার ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছিল।

এদিকে, মুম্বই সফরে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন মার্কিন বিদেশসচিব। এ বিষয়ে আগের কঠোর অবস্থানের পরিবর্তে তিনি বলেন, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা বুদ্ধিমানের কাজ।

রুবিওর কথায়, “ভারত বারবার জানিয়েছে, তারা নিজেদের জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনতে চায়। এটি একটি বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত। তবে একদিনের মধ্যে এই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ভারত এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। আমরা তা দেখে খুশি।”

মুম্বই সফরে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠক করেন রুবিও। দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও তাঁদের আলোচনা হয়। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অগ্রগতির পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নটিও ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।