মারণরোগ ক্যান্সার ধরা পড়ার পর জীবনের অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করতে অ্যান্টার্কটিকা পাড়ি দিয়েছিলেন চিনের এক মহিলা। তাঁর নাম ওয়াং ইং। চিকিৎসার আগে পৃথিবীর দক্ষিণতম মহাদেশে ঘুরে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেখানে গিয়ে ক্যামেরাবন্দি করেন মা পেঙ্গুইন ও তার শাবকের অপূর্ব মুহূর্ত। কিন্তু সেই সফর থেকে ফিরে এসে চিকিৎসকদের কাছ থেকে এমন খবর পান, যা তাঁর জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়ে দেয়। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর ক্যান্সার আক্রান্ত টিউমারটি আগের তুলনায় অনেকটাই ছোট হয়ে গিয়েছে।

চিনের সংবাদমাধ্যম সাংহাই মর্নিং পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুনমিংয়ের একটি স্কুলে চাকরি করতেন ওয়াং। ২০১৩ সালে তাঁর শরীরে থাইরয়েড ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও তখনই চিকিৎসা করাতে চাননি তিনি। বরং জীবনের অনিশ্চয়তার কথা ভেবে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে এই ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তাঁর নিজের সঞ্চয়ে ছিল না। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাঁর মা।

এরপর অ্যান্টার্কটিকার উদ্দেশে যাত্রা করেন ওয়াং।

সেখানে পৌঁছে তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল একটি বিশেষ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করা—মা পেঙ্গুইন মাছ শিকার করে নিজের শাবককে খাওয়াচ্ছে। হিমশীতল পরিবেশে, মাইনাস ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যেও দিনের পর দিন সেই মুহূর্তের সন্ধান চালিয়ে যান তিনি। অন্য পর্যটকেরা যখন ঠান্ডা থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতেন, তখনও নিজের কাঙ্ক্ষিত ছবিটির খোঁজে বাইরে থাকতেন ওয়াং। অবশেষে তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়। ক্যামেরায় বন্দি করেন মা পেঙ্গুইন ও তার শাবকের সেই বিশেষ মুহূর্ত।

অ্যান্টার্কটিকা থেকে চিনে ফেরার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, ক্যান্সার আক্রান্ত টিউমারটি আগের তুলনায় অনেকটাই ছোট হয়েছে এবং সেই সময় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই। এই খবর তাঁর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে।

এরপর থেকে পাখির ছবি তোলাকেই জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য করে নেন ওয়াং। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১২০০ প্রজাতির পাখির ছবি তুলেছেন তিনি। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে, নানা সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে মিশে জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গিয়েছে।

ওয়াংয়ের অভিজ্ঞতা যেন মনে করিয়ে দেয়, জীবনের অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাঁর টিউমার ছোট হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মাত্র; ভ্রমণ বা মানসিক পরিবর্তনের ফলে ক্যান্সার সেরে যায়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই জরুরি।