নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রেস কোর্স মসজিদ’ ভাঙার আশঙ্কা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মসজিদটি রক্ষায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এআইএমআইএম প্রধান তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। অন্যদিকে, মসজিদ ও সংলগ্ন কবরস্থান রক্ষায় আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ ও ভাঙার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ।
আরও পড়ুন:
সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে ওয়েইসি দাবি করেন, ১৯৭৭ সাল থেকেই রেস কোর্স মসজিদটি গেজেটভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত। তাঁর বক্তব্য, ওয়াকফ সংশোধনী আইনের আওতায় ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ বা দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ব্যবহারের ভিত্তিতে ওয়াকফ হিসেবে স্বীকৃত সম্পত্তির সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
ওয়েইসির অভিযোগ, মসজিদটি গেজেটভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড উচ্ছেদ বা ভাঙার নির্দেশের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করেনি। বিষয়টি সমাধানের জন্যও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওয়েইসি। তাঁর বক্তব্য, ২০২৩ সাল থেকে বোর্ড গঠিত না থাকায় বিষয়টি সমাধানে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও উদ্যোগ নিতে পারতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস মসজিদ প্রাঙ্গণটিকে ‘অননুমোদিত’ হিসেবে উল্লেখ করে একটি উচ্ছেদ নোটিশ জারি করে। ওই নোটিশে ছয় দিনের মধ্যে জায়গাটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবস্থিত।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, মসজিদ ও তার সংলগ্ন কবরস্থান রক্ষায় সরব হয়েছে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ। সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।
প্রতিনিধি দলের সদস্য মহম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমির জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেটে প্রকাশিত নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় এই স্থানের উল্লেখ রয়েছে। সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রকের সংরক্ষিত সংশোধিত তালিকাতেও স্থানটির নাম রয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
জমিয়ত দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড ও এনডিএমসি-র কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছে। পাশাপাশি, আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদ ও কবরস্থান উচ্ছেদ কিংবা ভাঙার কোনও পদক্ষেপ না করার আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, জমিয়তের প্রতিনিধি দলের বক্তব্য শুনেছেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বিষয়টি নিয়ে ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’র আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।