পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের অতর্কিত হামলায় ৩ মৈতেই গ্রামবাসীর নিহতের ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। এই নৃসংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে 'নেটিভ পিপলস কমিটি মণিপুর'-এর ডাকা ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে ইম্ফল উপত্যকার ৫টি জেলা।মঙ্গলবার সকাল থেকেই ইম্ফল ইস্ট, ইম্ফল ওয়েস্ট, থৌবাল, বিষ্ণুপুর এবং ককচিং জেলায় বন্ধ ছিল দোকানপাট, বাজারঘাট, স্কুল-কলেজ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তর। জাতীয় সড়ক ও স্থানীয় রাস্তায় দূরপাল্লার ও স্থানীয় গণপরিবহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
মণিপুর পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে সগোলমাং পুলিশ ফাঁড়ির অন্তর্গত কাংপোকপি জেলার খংবাল তাংখুল ও সুনুরোক পাহাড়ের সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১৪ জনের এক দল গ্রামবাসী জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।সেই সময় আচমকাই পাহাড়ি আড়াল থেকে বন্দুকধারীরা তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। গুলিতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন মৈতেই গ্রামবাসীর মৃত্যু হয় এবং আরও ৪ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোমবার রাত থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ইম্ফল উপত্যকা। ক্ষুব্ধ জনতা ইম্ফল ওয়েস্টের কোয়াকীথেল ও চিংমেইরং এবং ইম্ফল ইস্টের খুরাই লামলং এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। একাধিক জাতীয় ও রাজ্য মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়।মঙ্গলবার বন্ধ চলাকালীন এনপিসিএম-এর সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়ে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত হিংসায় জর্জরিত মণিপুরে এই সাম্প্রতিক ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইম্ফল ও তার আশেপাশের এলাকাগুলিতে বাড়তি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, অসম রাইফেলস ও রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।