ভোটাধিকার দেশের সংবিধানস্বীকৃত অধিকার। সেই অধিকার রক্ষায় আন্দোলন করাও গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে এই বার্তাই দিলেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত। তাঁর বক্তব্য, ভোটাধিকারের পক্ষে চলা আন্দোলনকে কোনওভাবেই খাটো করে দেখা যায় না।
আরও পড়ুন:
গত ২০ অক্টোবর নাগপুরে আরএসএসের প্রধান কার্যালয়ে বিজয়া দশমী উপলক্ষে ভাষণ দেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। সেখানে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে চলা বিক্ষোভ নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি।
ভাগবতের বক্তব্য, বিক্ষোভ দেখালেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়—এমন ধারণা ভুল। দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে বিদেশি শক্তি কাজে লাগাতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।আরও পড়ুন:
ভাগবত আরও দাবি করেন, আন্দোলনের পিছনে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের লক্ষ্য থাকতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি ফ্রান্স ও আলবেনিয়ার বিক্ষোভের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও নেপালে গণবিক্ষোভের জেরে সরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে ভারতের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভাগবতের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৃন্দা কারাত বলেন, ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিরোধিতা জানানোর অধিকার সংবিধানেই স্বীকৃত।
দেশের সংবিধান মানুষকে প্রতিবাদ করার অধিকার দিয়েছে। তাই ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে চলা আন্দোলনকে কোনওভাবেই খাটো করা উচিত নয়।আরও পড়ুন:
আরএসএস প্রধানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আরএসএসের শাখায় এই ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ নেই। তাঁর অভিযোগ, মহিলারাও আরএসএসের শাখায় যোগ দিতে পারেন না। বৃন্দা কারাতের কটাক্ষ, “ভাগবতজী, দয়া করে আপনারা গণতন্ত্রের পাঠ দেবেন না।”
আরও পড়ুন:
এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং কমিশনের কাজকর্মে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদও চলছে।আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে ভাগবত তাঁর ভাষণে বলেন, নির্বাচনী সুবিধা বা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের তাগিদে যেন বিবেচনাবোধ হারিয়ে না যায়। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের আক্রান্ত হিসেবে তুলে ধরে সমর্থন আদায়, মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলির উপর জনসাধারণের আস্থা দুর্বল করার চেষ্টা করা হতে পারে।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরোর সদস্য বিজু কৃষ্ণানের অভিযোগ, এসআইআর পর্বে বারবার প্রমাণ হয়েছে যে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। তাঁর দাবি, কমিশনের কাজকর্মে ভোটচুরির একাধিক নজির দেখা গিয়েছে। ভোটাধিকার রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।