ইরানের এক গ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও দেশ থেকে সরানো হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি। মঙ্গলবার তিনি ইরানের ইউরেনিয়ামকে ‘জাতীয় সম্পদ’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর এই মন্তব্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের কঠোর অবস্থান আরও একবার সামনে এল।
আরও পড়ুন:
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ এবং ইয়েমেনকে ঘিরে চলা উত্তেজনা নিয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করেছেন।আরও পড়ুন:
তবে কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তেহরানের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন:
ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পেছনেও এই কর্মসূচি একটি কারণ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ইরানের অভ্যন্তরেই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমিয়ে আনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি রেজায়ি। এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
ইরানের কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক কর্মসূচিকে দেশের সার্বভৌম অধিকার এবং জাতীয় অর্জন হিসেবে তুলে ধরে আসছে।
তাদের দাবি, হামলা, অন্তর্ঘাত ও হত্যাকাণ্ডের মতো নানা বাধা সত্ত্বেও এই কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রেজায়ির সাম্প্রতিক মন্তব্যেও সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।আরও পড়ুন:
ইরান কমমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বেসামরিক কাজেও ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস উৎপাদন এবং রাশিয়ার সহযোগিতায় বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
আরও পড়ুন:
তেহরানের যুক্তি, সামরিক চাপের মুখে পারমাণবিক কর্মসূচি ছেড়ে দেওয়া কার্যত আত্মসমর্পণের শামিল হবে। ভবিষ্যতে নতুন হামলার আশঙ্কা থেকে সুরক্ষার কোনও নিশ্চয়তা ছাড়া এই কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ছাড় দিতে ইরান রাজি নয় বলেই তাদের অবস্থান থেকে স্পষ্ট হচ্ছে।