পুবের কলম, ওয়ারশ: বিনামূল্যে ও বৈধভাবে গর্ভপাতের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে পোল্যান্ডের ২০টিরও বেশি শহরজুড়ে বড় মাপের রাজপথ বিক্ষোভের ডাক দিলেন ক্ষুব্ধ নারীরা। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্কের সরকার গর্ভপাত সংক্রান্ত কঠোর আইন শিথিল করার যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার এই দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত মঙ্গলবারই পোল্যান্ডের পার্লামেন্টে গর্ভপাতের নিয়ম কিছুটা নমনীয় করার উদ্দেশ্যে দুটি খসড়া বিল পাস হলেও আন্দোলনকারীরা একে স্রেফ 'দেখানো পদক্ষেপ' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কারণ বিল দুটি পাস হলেও ডানপন্থী রক্ষণশীল রাষ্ট্রপতি ক্যারোল নাওরকির সম্ভাব্য ভেটো পাওয়ারে আটকে যাওয়ার শতভাগ আশঙ্কা রয়েছে।
ওয়ারশ-ভিত্তিক প্রজনন অধিকার রক্ষা সংস্থা ‘অ্যাবরশন ড্রিম টিম’-এর প্রতিনিধি জোফিয়া মারসিনেক তোপ দেগে বলেছেন, আগামী বছর পার্লামেন্ট নির্বাচনের ঠিক এক বছর আগে এই ধরনের খসড়া বিল আনা কোনো প্রকৃত সংস্কারের চেষ্টা নয়, বরং এটি একটি ‘প্রতীকী ভণ্ডামি’। তাঁর মতে, তুস্কের প্রগতিশীল সরকার খুব ভালো করেই জানে যে রাষ্ট্রপতি ক্যারোল নাওরকির ভেটো টপকে এই বিল কোনোদিনও আইনে পরিণত হতে পারবে না। আগামী নির্বাচনে নারীদের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতেই সরকার স্রেফ কাজ করার অভিনয় বা বিভ্রান্তি তৈরি করছে।আরও পড়ুন:
ক্যাথলিক চার্চ-প্রধান দেশ পোল্যান্ডে ইউরোপের সবচেয়ে কঠোর গর্ভপাত আইন চালু রয়েছে।
১৯৯৩ সাল থেকে কেবল ভ্রূণের তীব্র বিকলাঙ্গতা, মায়ের প্রাণ ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কিংবা ধর্ষণ বা অনাচারের কারণে গর্ভধারণের ক্ষেত্রেই আইনি গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া হতো। ২০২০ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে ভ্রূণের জন্মগত ত্রুটির কারণে গর্ভপাতের সুযোগও বন্ধ করে আইনটিকে আরও কড়া করা হয়। এর প্রতিবাদে ২০১৬ সাল থেকে কালা পোশাক পরে হাজার হাজার নারী পোল্যান্ডজুড়ে ঐতিহাসিক “ব্ল্যাক প্রটেস্ট” শুরু করেছিলেন। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড তুস্কের ইউরোপীয় ইউনিয়ন-পন্থী জোট সরকার মূলত গর্ভপাত আইন উদারীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় এসেছিল। অধিকারকর্মীদের দাবি, মূল সংকটের কোনো সমাধান হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক প্রতারণা করেছেন।