পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নয়া দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র যুব আন্দোলনকারীদের আটক ও টানা সাত দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার ঘটনায় এবার কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মারাত্মক বিষোদ্গার করলেন তামিলনাড়ু বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তা কে আন্নামালাই। ৭ দিন পর বুধবার সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্ক মুক্তি পাওয়ার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে সরব হন তিনি।
আরও পড়ুন:
বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আন্নামালাই লেখেন, "২০১১ সালে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন যে, তাঁর হাত যদি বাঁধা না থাকত, তবে তিনি দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতেন। আমার মতে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তখন যা বলেছিলেন তা সম্পূর্ণ সঠিক ছিল।"
আরও পড়ুন:
বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তৎকালীন ঘটনার তুলনা টেনে প্রাক্তন বিজেপি নেতা বলেন, "আজকের দিনে আপনাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলে পুরে রাখা হতে পারে, জামিনের বন্ড বাতিল হতে পারে এবং প্রতিরোধমূলক জামিনের নামে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আপনার সঙ্গে খেয়ালখুশিমতো আচরণ করতে পারেন।
আর আপনি যদি গণতন্ত্রে আইনি প্রক্রিয়ার এই লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন, তবে আপনার গায়ে দেশদ্রোহী বা 'বিদেশি এজেন্ট'-এর তকমা লাগিয়ে আক্রমণ চালানো হবে।"আরও পড়ুন:
আন্নামালাই জানান, যদিও তিনি সিজেপি-র অনেক কৌশলের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে একমত নন, তবুও নীতিগতভাবে তাদের প্রতিবাদ করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, "প্রতিবাদ বা কেন্দ্রবিরোধী বক্তব্য পেলেই তাকে 'দেশবিরোধী' বা 'বিদেশি অর্থে পরিচালিত' বলা বন্ধ করা উচিত। এফসিআরএ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে, সমস্ত গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের হাতে এবং বিদেশের প্রতিটি দূতাবাসেই ভারতীয়দের ওপর নজর রাখার জন্য পর্যাপ্ত লোক রয়েছে। ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখতে কেন্দ্রকে কেন সারাক্ষণ এভাবে কাল্পনিক শত্রু তৈরি করে যেতে হচ্ছে, তা সত্যিই করুণ এবং অত্যন্ত একঘেয়ে এক নাটক।
"আরও পড়ুন:
প্রাক্তন দলীয় সতীর্থের এই আকস্মিক আক্রমণের জবাবে শক্ত হাতে ময়দানে নেমেছে তামিলনাড়ু বিজেপি। তামিলনাড়ু বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা বিনোদ সেলভাম বলেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা মোদী সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ সেই দায়িত্ব স্থগিত রাখতে পারে না। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুরক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনই আইনের লঙ্ঘনের তদন্ত করাও সমান জরুরি। কোনো রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড বা সোশাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে তুলে দেয় না।"