উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন বণ্টন নিয়ে জোটসঙ্গী সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের মধ্যে টানাপড়েনের ইঙ্গিত মিলছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের ৪০৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৭০টিতে লড়তে চেয়ে সমাজবাদী পার্টিকে তালিকা দিয়েছে কংগ্রেস। তবে কংগ্রেসের এই দাবি মেনে নিতে রাজি নয় অখিলেশ যাদবের দল বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুন:
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসের দেওয়া তালিকায় আসনগুলিকে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’—এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ শ্রেণির আসনগুলিতে কোনও পরিবর্তন করা হবে না বলে কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে। দলের একটি সূত্রের দাবি, এই শ্রেণির আসনগুলি নিয়ে মোটের উপর সমঝোতা হয়েছে।
তবে ‘বি’ ও ‘সি’ শ্রেণির আসনগুলি নিয়েই দুই দলের মধ্যে মূল দর-কষাকষি হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।আরও পড়ুন:
এর আগে ২০১৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট করে ১০৫টি আসনে লড়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু জিতেছিল মাত্র সাতটি আসনে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি পেয়েছিল ৪৭টি আসন। সেই নির্বাচনের পর দুই দলের জোট ভেঙে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গে আসন সমঝোতা করেও প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি অখিলেশের দল।
আরও পড়ুন:
তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে উত্তরপ্রদেশে ভালো ফল করে সমাজবাদী পার্টি। রাজ্যে বিজেপিকে পিছনে ফেলে আসনসংখ্যার নিরিখে এগিয়ে যায় অখিলেশের দল। কিন্তু নির্বাচনী সাফল্যের পরেও দুই শরিকের মধ্যে আসন বণ্টন ও রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে মতপার্থক্য সামনে আসছে।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ইকরা হাসান মন্তব্য করেন, বিজেপিকে হারানোর ক্ষমতা অখিলেশ যাদবের রয়েছে। কংগ্রেস একা তেমন কিছু করতে পারবে না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, কংগ্রেসকে প্রায় ৪০টি আসন ছাড়াই যথেষ্ট হতে পারে।
আরও পড়ুন:
ইকরার মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি তথা সাংসদ ইমরান মাসুদ। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভোটের আগে তৃণমূলও বড় বড় কথা বলত, কিন্তু পরে তাদের পরিস্থিতি কী হয়েছে, তা দেখা যাচ্ছে। অখিলেশ সক্রিয় হলেন কি না, তাতে কিছু এসে যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে কোনও জোটের পক্ষেই সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন:
উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাই আসন বণ্টনই দুই দলের সম্পর্কের বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। ১৭০টি আসনে লড়ার কংগ্রেসের দাবি এবং সমাজবাদী পার্টির আপত্তি—দুইয়ের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কীভাবে সমঝোতা হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।