উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : মাত্র ৫ টাকায় দুপুরের পেটভরা খাবার। সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় চালু রয়েছে ‘মা আহার’ প্রকল্প।সেই উদ্যোগে শুক্রবার নতুন করে যুক্ত হল জয়নগর-মজিলপুর পুরসভা। পুরসভার অফিস চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিষেবার উদ্বোধন করা হয়। ফিতে কেটে এবং সাধারণ মানুষের হাতে খাবার তুলে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।

এ দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী অলক হালদার ও শংকর চক্রবর্তী,সুপ্রীতি কুন্ডু, জয়নগর মজিলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুকুমার হালদার, ভাইস চেয়ারম্যান রথীন কুমার মণ্ডল,প্রীতম চক্রবর্তী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।উদ্বোধনের দিনই প্রায় ৪০০ জন মানুষের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। মেনুতে ছিল ভাত, ডাল, সবজি, মাছ, চাটনি ও পাঁপড়। মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে এমন পেটভরা খাবার পেয়ে খুশি এলাকার সাধারণ মানুষ।বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও কর্মসূত্রে বাইরে থাকা ব্যক্তিদের কাছে এই পরিষেবা যথেষ্ট সহায়ক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়নগর।মজিলপুর পুরসভার অধীন দশভুজা মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যারা এই ‘মা আহার’ কেন্দ্রের খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের কাছে সুলভে খাবার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, তেমনই মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন বহু মানুষ মাত্র ৫ টাকায় দুপুরের খাবার পাচ্ছেন।বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৫০০টি ‘মা আহার’ কেন্দ্র চালু রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আগামী দিনে এই পরিষেবার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত, দু’দিন ডিম-ভাত এবং দু’দিন সবজি-ভাত পরিবেশন করা হয়।জয়নগর মজিলপুর এলাকায় ‘মা আহার’ পরিষেবা নতুন করে চালু হওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির মধ্যে মাত্র ৫ টাকায় পেটভরে দুপুরের খাবার পাওয়ার এই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁদের প্রতিদিন কাজের প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে থাকতে হয়, তাঁদের জন্য এই পরিষেবা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে।সামাজিক সহায়তা ও জনকল্যাণের ভাবনাকে সামনে রেখে জয়নগর মজিলপুর পুরসভার এই উদ্যোগ আগামী দিনে আরও বেশি মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে, এমনটাই আশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।