পুবের কলম, ওয়াশিংটন: পুবের কলম, ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের কার্যকালে তাঁর জামাতা তথা প্রাক্তন সিনিয়র উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের আইফোন হ্যাক করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সংক্রান্ত ২০০ কোটি ডলারের (২ বিলিয়ন ডলার) বিশাল অর্থ লেনদেনের বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন ডাচ গোয়েন্দারা। খ্যাতনামা সাময়িকী ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এ প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাথিউ কোলের আসন্ন বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহামেদ বিন জায়েদস সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট’-এর বিশেষ অংশের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলের কিছু গোপন ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলারের এই লেনদেন পরিচালিত হতো।
আরও পড়ুন:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালের শেষের দিকে নেদারল্যান্ডসের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা রাশিয়ান সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের একটি হ্যাকিং অপারেশনের সূত্র ধরে কিছু গোপন নথি হাতে পায়।
তাতে জ্যারেড কুশনারের ব্যবহৃত 'আইফোন এক্স'-এর একাধিক স্ক্রিনশট ছিল। ডাচ গোয়েন্দারা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইফোনের একটি বিশেষ নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি খুঁজে বের করেন, যার মাধ্যমে কুশনার যখনই নিজের ফোন ব্যবহার করতেন, গোয়েন্দারা সরাসরি তাঁর স্ক্রিনের সমস্ত কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারতেন। এই নজরদারির মাধ্যমেই কুশনারের সাথে একটি ইউএই-সংযুক্ত ব্যাংকের গোপন লেনদেনের দৃশ্য ধরা পড়ে।আরও পড়ুন:
ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্র নীতিকে প্রভাবিত করার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেন।
পরবর্তীতে এই দুই রাষ্ট্রপ্রধান কুশনারের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক অ্যাকাউন্টে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলারের বন্দোবস্ত করেন।আরও পড়ুন:
পুরো ঘটনাকে “অলীক কল্পনা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জ্যারেড কুশনার নিজেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, "আমরা এই সমস্ত দাবির কথা শুরুতেই খণ্ডন করেছি। তা সত্ত্বেও লেখক কোনো ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, ওয়্যার ট্রান্সফার রেকর্ড, অ্যাকাউন্ট নম্বর বা লেনদেনের তারিখ দিতে পারেননি। আমার বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও বিশেষ কাউন্সিলের একাধিক তদন্ত হয়েছে, অথচ কোনো দিন এই ভুয়া অভিযোগের কথা উঠে আসেনি কারণ এর কোনো অস্তিত্বই নেই।"