ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে দুই দেশের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছিলেন বলে ফের দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাতেই ভারত ও পাকিস্তানের নেতারা সংঘর্ষ থামাতে রাজি হয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ‘অপারেশন সিঁদুর’-পরবর্তী সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ফের নিজের কূটনৈতিক ভূমিকার কথা প্রচার করলেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে নয়াদিল্লি আগে কখনও স্বীকৃতি দেয়নি।

শুক্রবার ফ্লরিডায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের তিনি সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষ বন্ধ না করলে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবেন না তাঁরা।

দুই দেশের উপরই ২৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, তাঁর এই হুমকির ফলেই নরেন্দ্র মোদী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সংঘর্ষে ইতি টানতে সম্মত হন।

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ৭ মে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। পাকিস্তানের ভূখণ্ডে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ভারত। এরপর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়।

 

সংঘর্ষবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে ভারতের বক্তব্যের পার্থক্য রয়েছে। ১০ মে ২০২৫-এ ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের মহানির্দেশক বা ডিজিএমও ভারতীয় ডিজিএমও-র সঙ্গে যোগাযোগ করে সংঘর্ষবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এরপর স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছয়।

অন্যদিকে, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো জানিয়েছিলেন, তিনি এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। 

কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ভারত তাতে সম্মতি জানায়। 

ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামানোর কৃতিত্ব নিজের বলে ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দাবি করেছেন। এবারও সেই একই দাবি সামনে আনলেন তিনি।