পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দিল্লিতে রাহুল গান্ধী এবং অখিলেশ যাদব জোট অটুট থাকার বার্তা দিলেও উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসনরফা নিয়ে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির (সপা) মধ্যে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়েছে। দুই দলের মধ্যে আসন বন্টন নিয়ে মতবিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, 'ইন্ডিয়া' জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমাজবাদী পার্টির উপরই মূলত নির্ভরশীল কংগ্রেস। তবে রাজ্যের সমস্ত প্রান্তে নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে সপার কাছে ১৭৫ থেকে ২০০টি আসন দাবি করেছে হাত শিবির। জোট প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা।

গত তিনটি বিধানসভা ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে কংগ্রেস প্রাথমিকভাবে ১৬৫টি আসনের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকায় 'এ' ক্যাটাগরিতে ১০০টি, 'বি' ক্যাটাগরিতে ৪০টি এবং 'সি' ক্যাটাগরিতে ২৫টি আসন রাখা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক রাজেন্দ্র পাল গৌতম জানিয়েছেন যে, তাঁরা সমাজবাদী পার্টির কাছে ১৭৫ থেকে ২০০ আসনের একটি তালিকা পাঠিয়েছেন।
কংগ্রেসের এই বিপুল আসনের দাবিতে রীতিমতো বিস্মিত সমাজবাদী পার্টি। সপা নেতৃত্বের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ২ শতাংশেরও কম ভোট পেয়ে মাত্র ২টি আসনে জিতেছিল।
এর আগে ২০১৭ সালে সপার সঙ্গে জোটে ১১৭টি আসনে লড়ে কংগ্রেস মাত্র ৭টিতে জয়লাভ করে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে কংগ্রেসের এত আসন দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অখিলেশ যাদবের দল। সপার এক সাংসদ জানিয়েছেন, অখিলেশ যাদব আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কে কত আসনে লড়বে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল জেতার সম্ভাবনা। সপা প্রাথমিকভাবে কংগ্রেসকে ৫৩টি আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা সর্বোচ্চ ৭৫ পর্যন্ত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আসনরফা নিয়ে দুই দলের দড়ি টানাটানি শেষে কোনও সমঝোতায় পৌঁছতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।