পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ছাত্রসংসদ পুনর্বহালের দাবিতে চলা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের খণ্ডযুদ্ধের জেরে চরম উত্তেজনা ছড়ায় ক্যাম্পাসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনলাইনেই পঠনপাঠন চলবে।
২০০৬ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ বাতিল করা হয়েছিল।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর সেই সংসদ ফেরানোর দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ এবং অনশন চালাচ্ছিলেন পড়ুয়ারা। তাঁরা ক্যাম্পাসে অস্থায়ী তাঁবুও তৈরি করেছিলেন। শনিবার সকালে নিরাপত্তারক্ষীরা সেই তাঁবু সরাতে গেলেই দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মাহতাব আলম রিজভি এই ঘটনার জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করে দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, শনিবার ক্যাম্পাসে এসে কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগঢ়ি ও ইমরান মাসুদ পড়ুয়াদের উসকানি দেওয়ায় পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ছাত্র সংসদ না থাকা এবং শিক্ষার্থীদের অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরে গত ২১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে চিঠি দিয়েছিলেন সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিট্টাস।
তবে শুধুমাত্র ছাত্র সংসদের দাবি নয়, এই আন্দোলনে বিতর্কিত স্লোগান ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ‘ফ্রি কাশ্মীর’ স্লোগান লেখা হয়। পাশাপাশি, ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে পুলিশের খাতায় অভিযুক্ত এবং গত ছ'বছর ধরে বন্দি থাকা শারজিল ইমামের মুক্তির দাবিতেও স্লোগান তোলেন আন্দোলনকারীরা। এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। ক্যাম্পাসের দেওয়ালে এমন দেশবিরোধী স্লোগান ঘিরে নতুন করে যাতে কোনও বড় অশান্তি না ছড়ায়, সেদিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।