পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: ভারতে সংবিধান ও নানা আইনি সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও দলিত সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন ও বঞ্চনা এখনও ব্যাপকভাবে চলছে। তাদের প্রায়ই সহিংসতা, সামাজিক বর্জন ও অর্থনৈতিক শোষণের শিকার হতে হয়। অনেককে আজও আলাদা মহল্লায় বসবাস করতে বাধ্য করা হয় এবং তথাকথিত “অশুচি” বা “অপবিত্র” কাজ করানো হয়।
আরও পড়ুন:
এই ধারাবাহিক নির্যাতনের সাম্প্রতিক নজির দেখা গেল চেন্নাইয়ে। সেখানকার সেক্রেটারিয়েট কলোনিতে ভিন্ন জাতের এক মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ১৭ বছরের এক দলিত (তফশিলি জাতি) কিশোর।
তাঁকে মারধর, নগ্ন করে অপমান এবং জাত তুলে গালাগাল দেওয়া হয়।আরও পড়ুন:
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার। কিশোরটি মেয়েটির আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন। অভিযোগ, মেয়েটির আত্মীয়রা তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে বিজেপির প্রাক্তন পদাধিকারী বলে পরিচিত সারাভাননকে খবর দেন। এরপর সারাভানন ও তাঁর ভাই লোগেশ ঘটনাস্থলে এসে কিশোরকে বেধড়ক মারধর করেন, তাঁর পোশাক খুলে অপমান করেন এবং জাত নিয়ে গালিগালাজ করেন।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোর তফশিলি জাতি (আদি দ্রাবিড়) সম্প্রদায়ের এবং দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটি সর্বাধিক পশ্চাদপদ শ্রেণি (ভান্নিয়ার) সম্প্রদায়ের। আলাদা স্কুলে পড়াশোনা শুরু করার পরেও তাঁরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।
আরও পড়ুন:
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “ছেলেটিকে মারধর করে ভীষণভাবে অপমান করা হয়েছে। সারাভানন জাতিগত কটু শব্দ ব্যবহার করেছে।
” বর্তমানে ওই কিশোর চেন্নাইয়ের কিলপক মেডিকেল কলেজ (কেএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।আরও পড়ুন:
পুলিশ সারাভানন ও লোগেশের বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছে। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় অশ্লীল কাজকর্ম, ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা, হত্যাচেষ্টা ও অপরাধমূলক ভয় দেখানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
দলিতদের ওপর চলমান এই ধরনের নৃশংসতা ভারতীয় সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত কুসংস্কার ও জাতপাতভিত্তিক ঘৃণার নির্মম প্রমাণ। প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে খবর হয় যে, দলিতরা জাতপাতের তথাকথিত নিয়ম ভাঙায় তাদেরকে লাঞ্ছনা করা হচ্ছে, মারধর কিংবা খুন করা হচ্ছে। এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল, আইন থাকলেও বাস্তবে তার সঠিক প্রয়োগ ও সুরক্ষা কতটা জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে এই ঘৃণা ও বঞ্চনার সংস্কৃতি ভাঙা কঠিন।