ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারণা থেকে শুরু করে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন—দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সাইবার অপরাধচক্রের তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই মামলায় রশেশ উপাধ্যায় ওরফে রশেশ শাহ নামে এক আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
আরও পড়ুন:
গতকাল মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিল্লিগামী বিমানে ওঠার আগে তাঁকে আটক করেন পানাজির ইডি আধিকারিকরা। পরে তাঁকে গোয়ায় নিয়ে গিয়ে বিশেষ আদালতে পেশ করা হয়।
আদালত অভিযুক্তকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।আরও পড়ুন:
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে উঠে এসেছে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক লেনদেনের তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, সাইবার অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে গেলে ‘আঙ্গাড়িয়া’ নামে পরিচিত নগদ লেনদেনকারীদের মাধ্যমে ঘুষ দিয়ে সেই অ্যাকাউন্টগুলি খোলানোর ব্যবস্থা করতেন অভিযুক্ত।
আরও পড়ুন:
২০২৫ সালের মে মাসে গোয়ার এক মহিলাকে ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে ২.৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়।
ইডির দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ওই টাকা প্রায় ৪০০টি মিউল অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। অন্যের পরিচয় বা তথ্য ব্যবহার করে খোলা কিংবা পরিচালিত এমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।আরও পড়ুন:
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই নেটওয়ার্কের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। ৩০০-রও বেশি অভিযোগ এবং ১৬০টির বেশি এফআইআরের সঙ্গে এই চক্রের সম্ভাব্য সংযোগ রয়েছে। প্রতারণার জেরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকারও বেশি বলে দাবি তদন্তকারীদের।
আরও পড়ুন:
এই বিপুল আর্থিক লেনদেনের নেপথ্যে কারা রয়েছে, কীভাবে টাকা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে সরানো হয়েছে এবং অভিযুক্তের সঙ্গে আরও কারা জড়িত—তা খতিয়ে দেখছে ইডি।