ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কাতেই বাড়ছে জ্বালানির দাম।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩.১ শতাংশ বা ৩.৫৫ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬.৭২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ২৯ এপ্রিলের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ সমাপনী দর। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩.২৭ ডলারে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন:
এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সাপ্তাহিক হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৬.২ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ শতাংশ।
আরও পড়ুন:
ইরানকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। গত ২১ অক্টোবর ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও আলোচনা চলছে না। পাশাপাশি শিগগিরই ‘বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
এদিকে মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের পর যেকোনও ধরনের অসম যুদ্ধ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। ফলে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ঘিরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
আরও পড়ুন:
এরই মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর তেল সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সৌদি আরবে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন কর্মীদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।আরও পড়ুন:
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, গত ২১ অক্টোবর দেশটির পূর্বাঞ্চলের শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত ও দুজন আহত হন। একই সময়ে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় আরও দুজন নিহত এবং আটজন গুরুতর আহত হন।
আরও পড়ুন:
এসব ঘটনার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা আরামকো দাহরানে অবস্থিত সদর দপ্তরের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।