পুবের কলম ওয়েবডেস্ক :
উত্তর-পূর্ব ভারতের তিন রাজ্যে একযোগে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’-এর অধীনে অসম, মিজোরাম ও মণিপুরের ৩৮টি স্থানে গত ২৩ অক্টোবর অভিযান চালানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এই অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০ কোটি টাকার হাওলা লেনদেনের সূত্র মিলেছে।
অমিত শাহের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় ১,৪২৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে এবং ১৭.৮২ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৫০০টি ডেটোনেটর ও ১২ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ডেটোনেটরগুলির সঙ্গে মাদক পাচারচক্রের সম্পর্ক কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ভারত, মায়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক এই চক্র মাদক পাচার চালাত। তিনি এই পাচারপথকে ‘ডেথ ট্রায়াঙ্গল করিডর’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির পাশাপাশি তিন রাজ্যের পুলিশ এই অভিযানে অংশ নেয়।
দেশ থেকে মাদক পাচারচক্র নির্মূল করতে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিক অভিযান চালানোর লক্ষ্যমাত্রার কথাও পুনরায় তুলে ধরেছেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, মাদক পাচার যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ও দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুতর বিপদ।
উত্তর-পূর্ব ভারতে মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে সিন্থেটিক মাদক পাচারের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ, বাজেয়াপ্ত মাদকের পরিমাণ এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।