পুবের কলম ওয়েবডেস্ক :
গুজরাতের কচ্ছ জেলায় মুহাম্মাদি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনায় প্রশাসনের ‘অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো’ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল গুজরাত হাই কোর্ট। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে আগামী ৩০ অক্টোবর কচ্ছের জেলাশাসক অনিল রানাভাসিয়াকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি নিরাল আর. মেহতা। খবর মাধ্যমম অনলাইন ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর।
মসজিদ ভাঙার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল মুহাম্মাদি মসজিদ জামাত ট্রাস্ট। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আবেদনকারী সিদ্দিক তেজমল সামার অভিযোগ, সরকারি জমি দখলের অভিযোগে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হলেও জবাব দেওয়া এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি।
আবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ জুন গুজরাত ল্যান্ড রেভিনিউ কোডের ৬১ নম্বর ধারায় কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। ২০ জুন মসজিদ কর্তৃপক্ষ তার জবাব জমা দেয়। কিন্তু তার আগেই, ১৯ জুন মসজিদটিকে সরকারি জমিতে অবৈধ দখল হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশাসনিক নির্দেশ জারি হয়। এরপর ২১ জুন মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে আদালতের নির্দেশে জেলাশাসক একটি হলফনামা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই হলফনামায় এত দ্রুত পদক্ষেপ করার যথাযথ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কী সংশোধনমূলক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জানাতেই জেলাশাসককে তলব করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জেলাশাসকের দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবস্থিত ছিল এবং তার বৈধ অনুমোদনের নথি কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না।
মসজিদ পুনর্নির্মাণ, ক্ষতিপূরণ এবং দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ট্রাস্ট। তবে মসজিদ ভাঙার বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত রায় এখনও দেয়নি আদালত। আগামী শুনানিতে মুহাম্মাদি মসজিদ জামাত ট্রাস্ট ও প্রশাসনের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে ।