পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ ঘিরে রাজ্যে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে আপিল ট্রাইব্যুনালের জন্য নতুন নির্দেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও নতুন নথি গ্রহণের আগে তার সত্যতা যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে। যাচাই না করে সেই নথি গ্রহণ করা যাবে না।
আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার এক নির্বাচনী সভা থেকে তিনি বলেন, “আজ আমি খুশি।
সুপ্রিম কোর্ট ভাল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। বস্তা ভরে ফর্ম ৬ এনে বাইরে থেকে নাম ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছিল। আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, এভাবে আর হবে না।”আরও পড়ুন:
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দু’দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনকে সামনে রেখে ফর্ম ৬ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, বিজেপি নেতাদের তরফে বস্তা ভর্তি ফর্ম ৬ জমা দেওয়া হচ্ছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।আরও পড়ুন:
এ প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বুধবার এই ইস্যুতে কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে যান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, একজন ব্যক্তি প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা দিয়েছেন। অথচ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়ে গেছে এবং বিচারাধীন নামগুলিও ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে ফর্ম ৬ জমা নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া একটি চলমান ব্যবস্থা এবং যে কোনও নাগরিক তা জমা দিতে পারেন।
আরও পড়ুন:
এদিকে আপিল ট্রাইব্যুনালকে দেওয়া নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নতুন নথি গ্রহণের আগে তার সত্যতা যাচাই করা বাধ্যতামূলক। এর আগে আদালতের প্রাথমিক নির্দেশে বলা হয়েছিল, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের কাছে আগে দাখিল করা হয়নি—এমন কোনও নতুন নথি আপিল ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করতে পারবে না। তবে আবেদনকারীদের আপত্তির পর সেই নির্দেশে সংশোধন আনা হয়। সংশোধিত নির্দেশে আদালত জানায়, যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনও নতুন নথি গ্রহণ করা যাবে না।
আরও পড়ুন:
শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্ট আরও নির্দেশ দিয়েছে যে বুধবারের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অনলাইন এবং অফলাইন—দুই ধরনের আপিল প্রক্রিয়া সম্পর্কেই তাঁদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে।