পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  কিরগিজস্তানে ভারতীয় পড়ুয়াদের উপর হামলা। এই সংকটের পরিস্থিতিতে ভারতীয় ও পাকিস্তানের পড়ুয়াদের বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের তরফে পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “আমাদের দেশের পড়ুয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পড়ুয়াদের আপাতত বাড়িতেই থাকতে বলা হচ্ছে।

কোনও সমস্যা হলে, ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।

এক্স হ্যান্ডেলে শেহবাজ শরিফ লিখেছেন, 'কিরগিজস্তানের বিশকেকে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

আমি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে সমস্ত প্রয়োজনীয় সাহায্য ও সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দফতরও দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং ক্রমাগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে'।

সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, হামলায় তিন পাকিস্তানি ছাত্র নিহত হয়েছে, তবে সে দেশের সরকার বলেছে যে তারা এখনও কোনও মৃত্যুর রিপোর্ট পায়নি। পাকিস্তানের দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, গত ১৩ মে কিরগিজ ও মিশরীয় পড়ুয়াদের ঝামেলা বাধে, তার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ভারতীয়, পাকিস্তানি সহ একাধিক দেশের পড়ুয়াদের উপরে হামলা করা হয়। পাকিস্তানের একাধিক পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানি পড়ুয়াদের বাড়িতেই থাকতে বলা হয়েছে। কিরগিজস্তানে প্রায় ১০ হাজার পাকিস্তানি পড়ুয়া রয়েছে।

পাকিস্তানের কিরগিজস্তান কনস্যুলেট এক্স-এ একটি পোস্টে লিখেছে, "এখন পর্যন্ত, বিশকেকের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হোস্টেল এবং পাকিস্তানিসহ আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ব্যক্তিগত বাসভবনে হামলা হয়েছে। হোস্টেলে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বাস করে। পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন ছাত্রের অল্পবিস্তর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কিরগিজস্তানে ভারতীয় ছাত্রের সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ বলে অনুমান করা হয়। তাদের মধ্যে কতজন বিশকেকে আছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও জানিয়েছেন, বিশকেকে ভারতীয় পড়ুয়ারা যাতে সুরক্ষিত থাকেন, তার জন্য পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে।