বিধান পরিষদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীর দুটি আসনেই পরাজিত হয়েছে বিজেপি। বারাণসী স্নাতক ও বারাণসী শিক্ষক—দুই আসনেই জয় পেয়েছে সমাজবাদী পার্টি। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক মিলিয়ে ২৮টি আসনের মধ্যে ১২টিতে প্রার্থী দিয়েও একটিতেও জিততে পারেনি কংগ্রেস। এই ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।

বুধবার কংগ্রেসের শূন্য আসন পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিধান পরিষদ নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি কংগ্রেসের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিরোধীদের ইভিএম নিয়ে অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে তাঁদের সমালোচনার পাল্টা জবাব হিসেবেই মোদির এই মন্তব্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

মোদির কটাক্ষের জবাব দিয়েছেন কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা। তাঁর বক্তব্য, ইভিএম ও ব্যালট—দুই পদ্ধতিতেই বিজেপি জিতবে বলে যদি মোদি আত্মবিশ্বাসী হন, তাহলে আগামী নির্বাচন ব্যালট পেপারে করানোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

উত্তরপ্রদেশের ১১টি আসনের মধ্যে বিজেপি ছ’টি এবং সমাজবাদী পার্টি পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছে বলে খবর। তবে বারাণসীর দুই আসনে বিজেপির পরাজয় রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। লখনউ, প্রয়াগরাজ ও আগ্রার মতো শহরাঞ্চলের শিক্ষক ও স্নাতক কেন্দ্রগুলির ফলাফলও বিজেপির কাছে উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কারণ, স্নাতক কেন্দ্রগুলিতে শুধুমাত্র যোগ্য স্নাতক ভোটার এবং শিক্ষক কেন্দ্রগুলিতে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক ভোট দিতে পারেন।

বিহারেও বিজেপির জন্য ধাক্কার খবর এসেছে। প্রায় ৩০ বছর পর পাটনা আসন বিজেপির হাতছাড়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, দ্বারভাঙা আসনে জয় পেয়েছে প্রশান্ত কিশোরের দল। মহারাষ্ট্রে বুধবার রাত পর্যন্ত ভোট গণনা চলছিল। মারাঠওয়াড়া আসনে শরদ পাওয়ারের দল এগিয়ে ছিল বলে জানা গিয়েছে।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অযোধ্যায় বিজেপির পরাজয়ের পর এবার বারাণসীর দুই বিধান পরিষদ আসনেও দলের হার নিয়ে কটাক্ষ করেছে সমাজবাদী পার্টি। দলের বক্তব্য, রাম এবং মহাদেব—দুই ক্ষেত্রেই বিজেপির উপর মানুষের অসন্তোষের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

যদিও এই মন্তব্য রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিধান পরিষদ নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির এই ফলাফল অখিলেশ যাদবের দলের কাছে উৎসাহব্যঞ্জক হতে পারে। অন্যদিকে, ২৮টি আসনের মধ্যে একটিতেও জয় না পাওয়ায় কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে কর্ণাটকে কংগ্রেসের সরকার থাকা সত্ত্বেও চারটি আসনের একটিতেও জয় না পাওয়া দলটির কাছে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

তবে বিধান পরিষদের এই নির্বাচন এবং বিধানসভা নির্বাচন এক নয়। ফলে এই ফলাফল থেকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রবণতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে ভোটের আগে এই ফলাফল রাজনৈতিক দলগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।