পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য এবং ডিলার প্রাইসের বিপুল তফাত নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করল দেশের শীর্ষ আদালত। ওষুধের বিদ্যমান মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা রোগীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কেন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ও বেসরকারি হাসপাতালগুলির পকেট ভারী করছে—মঙ্গলবার শুনানি চলাকালীন সে বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।

বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি চলাকালীন ক্ষোভ প্রকাশ করে পর্যবেক্ষণ করেন যে, ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণের মূল্য নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ওষুধ মূল্য নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ বা 'এনপিপিএ' বর্তমানে সম্পূর্ণ "অকার্যকর বা অকেজো" প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

অ-তালিকাভুক্ত ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামগুলির ক্ষেত্রে ট্রেড মার্জিনের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়ার দাবিতে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ একটি বাস্তব ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে।

বেঞ্চ জানায়, এক ওষুধ ডিলারের স্ত্রী যখন একটি স্বনামধন্য বেসরকারি হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা করাচ্ছিলেন, তখন ওই ডিলার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান যে কেমোথেরাপির যে ইনজেকশনটি হাসপাতাল প্রদেয় তা তিনি নিজে ডিলার হিসেবে মাত্র ১১,০০০ টাকায় সংগ্রহ করতে পারেন। কিন্তু হাসপাতাল বাইরে থেকে আনা ওই ইনজেকশন নিতে অস্বীকার করে এবং একই ইনজেকশনের জন্য ১,৩০,০০০ টাকা দাবি করে।

বিচারপতিদ্বয় কেন্দ্রের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, "ডিলার প্রাইস এবং হাসপাতালের নেওয়া দামের মধ্যে এই আকাশপাতাল ফারাকের কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে? সাধারণ মানুষ ও রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সময় এমন উগ্র পুঁজিবাদী মানসিকতা কীভাবে প্রশ্রয় পায়?

এই ডাকাতির অর্থ কার পকেটে যাচ্ছে?"

শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি দাবি করেন যে, সরকার মূল্য নির্ধারণ নীতি প্রতিনিয়ত সংশোধন ও ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। তবে শীর্ষ আদালত এই জবাবে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে বলে, "আপনাদের সংশোধন নীতি সম্পূর্ণ ভুল পথে চলেছে। ১১ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকাকে কোনোভাবেই নীতি সংশোধন বলা যায় না।"