পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন জেতার পরপরই দলবদল বা পুনরায় ভোটে লড়ার উদ্দেশ্যে কোনো বিধায়ক পদত্যাগ করলে, সেই কারণে আয়োজিত উপনির্বাচনের পুরো খরচ কি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর কাছ থেকে আদায় করা উচিত? একটি জনস্বার্থ আবেদনের ভিত্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রশ্নের আইনি জবাব চেয়ে কেন্দ্র, নির্বাচন কমিশন এবং তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে নোটিশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।
আরও পড়ুন:
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনিয়ার সমন্বয়ে গঠিত শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছেন। তামিলনাড়ুর একাধিক বিধায়ক, যাঁরা সম্প্রতি পদত্যাগ করে উপনির্বাচনে লড়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন, তাঁদিগকেও এই মামলায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
জনৈক পেশাদার আইনজীবী মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে মাদ্রাজ হাইকোর্ট তাঁর রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিল। হাইকোর্টে পেশ করা আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার অল্পদিনের মধ্যেই অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কড়গম-এর ৬ জন নির্বাচিত সদস্য নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দেন। আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, এই সদস্যগণ কোনো বাধ্যতামূলক বা জরুরি পরিস্থিতি ছাড়াই সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে পদত্যাগ করেছেন।
ফলে তাঁদের কারণে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় উপনির্বাচন আয়োজন করতে হচ্ছে, যার পুরো আর্থিক বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ করদাতাদের।আরও পড়ুন:
আবেদনকারী আদালতে সোচ্চার হয়ে বলেন, কোনো একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে একই আসনের জন্য সাধারণ জনগণকে কেন দু’বার করের টাকা থেকে নির্বাচনের খরচ বহন করতে হবে? এই সমস্যার সমাধানে তিনি ‘ইলেকশন এক্সপেনডিচার সিকিউরিটি’ নামক একটি নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, যে বিধায়ক স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়ে সেই কারণে সৃষ্ট উপনির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইবেন, তাঁকে উপনির্বাচনের আনুমানিক খরচের সমপরিমাণ অর্থ জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে। নির্বাচনে জয়ী হলে ওই জামানত ফেরত পাবেন এবং পরাজিত হলে সেই অর্থ সরকারি তহবিলে বাজেয়াপ্ত করা হবে।