ইজরায়েলে আজ সাধারণ নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোটের ফল তাঁর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটাতে পারে, আবার তৈরি করতে পারে নতুন রাজনৈতিক অচলাবস্থা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং তার পর গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের পর এই প্রথম সাধারণ নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে দেশটি।
আরও পড়ুন:
ইজরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসনসংখ্যা ১২০।
সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। কিন্তু বিভিন্ন জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত, কোনও দল বা জোটই সহজে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না। ইজরায়েলের তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলের শেষ মুহূর্তের সমীক্ষা অনুযায়ী, সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোটের মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টি ২২ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির ঝুলিতে যেতে পারে ১৯ থেকে ২১টি আসন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদের জোট পেতে পারে ১৪ থেকে ১৫টি আসন।আরও পড়ুন:
সমীক্ষা অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোট সম্মিলিতভাবে প্রায় ৫০টি আসন পেতে পারে। বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫২ থেকে ৫৬-এর মধ্যে থাকতে পারে। ফলে ভোটের পর সরকার গঠনের জন্য ছোট দলগুলির সমর্থন এবং জোটের সমীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রায় ৭৩ লক্ষ যোগ্য ভোটারের মধ্যে ১২ লক্ষ ফিলিস্তিনি নাগরিক রয়েছেন। ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলি ১৪ থেকে ১৬টি আসন পেতে পারে বলে সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে সরকার গঠনে তাদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলের উপর।আরও পড়ুন:
প্রচারে সরকারি জবাবদিহি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ৬৬ বছর বয়সি সাবেক সামরিক প্রধান আইজেনকোট। তবে নিরাপত্তা নীতির প্রশ্নে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর বেশ কিছু মিল রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতাও করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, জাতীয় নিরাপত্তাকে সামনে রেখেই প্রচার চালিয়েছেন ৭৭ বছর বয়সি নেতানিয়াহু। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা, তাঁর বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতির মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তাঁকে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটাররা তাঁকে ফের ক্ষমতায় ফেরান, নাকি পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেন, এখন সেদিকেই নজর গোটা বিশ্বের। আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের কথা রয়েছে।