কন্নড়ভাষী প্রার্থীদের ইচ্ছাকৃতভাবে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হলে সংশ্লিষ্ট আইটি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে কর্নাটক সরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিতর্কের আবহে এই হুঁশিয়ারি দিলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, রাজ্যে কন্নড়ভাষীদের অধিকার, মর্যাদা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কোনওভাবেই উপেক্ষা করতে দেওয়া হবে না।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক মহিলা অভিযোগ করেন, বেঙ্গালুরুর কয়েকটি আইটি সংস্থা নিয়োগের ক্ষেত্রে কন্নড়ভাষী প্রার্থীদের ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিচ্ছে।

তাঁর দাবি, যাঁরা কন্নড়কে নিজেদের মাতৃভাষা হিসেবে উল্লেখ করছেন, তাঁদের ইন্টারভিউয়ের পর্যায় থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হচ্ছে।

ওই মহিলার আরও অভিযোগ, বেঙ্গালুরুর স্থানীয় কলেজগুলির ক্যাম্পাসেও অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউ নেওয়া হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চলছে বলে অভিযোগ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান ওই মহিলা।

ভিডিওটি ঘিরে বিতর্ক ছড়ানোর পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার।

এক্স হ্যান্ডেলে তিনি জানান, কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে কন্নড়ভাষীদের উপেক্ষা করছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। তাঁর কথায়, “কর্নাটকে কন্নড়ভাষাই অগ্রাধিকার।” তিনি আরও বলেন, কন্নড়ভাষীদের অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা কোনও কারণেই উপেক্ষা করতে দেওয়া হবে না।

বেঙ্গালুরুর আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শিবকুমার।

তাঁর বক্তব্য, বিশ্বজুড়ে বেঙ্গালুরুকে ভারতের প্রযুক্তি রাজধানী হিসেবে দেখা হয়। এই শহরের উন্নয়নে কন্নড়ভাষীদের প্রতিভা, দক্ষতা ও সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের স্বার্থ রক্ষা এবং উদ্বেগের বিষয়ে পদক্ষেপ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কোনও সংস্থা সত্যিই ভাষার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ে বৈষম্য করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরই বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে বেঙ্গালুরুর তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে নিয়োগের নীতি ও স্থানীয় প্রার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।