স্কুলস্তর থেকেই পড়ুয়াদের মধ্যে রাষ্ট্রবাদ, দেশপ্রেম ও জাতীয় ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, পড়ুয়াদের মধ্যে দেশ ও দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত বিতর্ক, কুইজ ও তাৎক্ষণিক বক্তৃতার আয়োজন করা প্রয়োজন। দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে ফের ‘আরশোলা’, ‘ছারপোকা’ ও ‘দিমাগি নকশাল’দের বিরুদ্ধে সরব হলেন তিনি।

রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের চোরবাগানে মৃত কল্পনা জানার বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা এবং সিজেপির আন্দোলন-সহ একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।

সেই সময়ই স্কুলে রাষ্ট্রবাদী চেতনা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের রাষ্ট্রবাদী করার জন্য প্রত্যেক বছর তিন দিন করে অন্তত বিতর্ক, কুইজ প্রতিযোগিতা, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা—এগুলোও কালচারাল ইভেন্টের মধ্যে আনতে হবে।” এরপর ‘আরশোলা’, ‘ছারপোকা’, ‘দিমাগি নকশাল’ এবং ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে তিনি কয়েকটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের প্রবণতাকে রুখতে পড়ুয়াদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তোলা জরুরি।

শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গেও রাজ্যের পূর্ববর্তী বাম সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ বাম শাসন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। স্কুলে এনসিসি চালু রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এনসিসি কেউ তুলে দেয়?”

পাশাপাশি স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা এবং পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ভারতবর্ষের ইতিহাস ও পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস পড়ুয়াদের মধ্যে আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে প্রতিটি স্কুলে এনসিসি, এনএসএস এবং ব্রতচারীর মতো কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার কথাও বলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে শিক্ষা, জাতীয়তাবাদ এবং স্কুলের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।