পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ভারত ও চিনের মতো দুটি বিশাল ও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য তৈরি হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে দুই দেশের জাতীয় স্বার্থের তাগিদেই একটি কার্যকরী সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলির সমাধান আলোচনা মাধ্যমেই করতে হবে।
আরও পড়ুন:
নয়া দিল্লিতে আয়োজিত ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট’-এ বক্তব্য রাখার সময় বিদেশমন্ত্রী ড. জয়শঙ্কর ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি ও সীমান্ত বিবাদ সমাধানের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
আরও পড়ুন:
সীমান্ত বিবাদ নিরসনে ভারতের কৌশলে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে বিদেশমন্ত্রী পরিষ্কার করেন, যেকোনো চড়ান্ত সীমান্ত সমাধানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সীমান্তকেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ভারতের এই নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। জয়শঙ্করের কথায়, যেকোনো ফলপ্রসূ ও বাস্তবসম্মত আলোচনার একটি নির্দিষ্ট সূচনাবিন্দু থাকা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট এলাকা ধরে আলোচনা শুরু করা মানে নীতি পরিবর্তন নয়, বরং সামগ্রিক সমাধানের দিকে এগোনোর একটি বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়া।আরও পড়ুন:
জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, ১৯৮০-র দশক থেকেই সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা ভারত-চিন সম্পর্কের মূল মাপকাঠি হিসেবে কাজ করেছে।
দুই দেশের মধ্যে একাধিক জটিল চুক্তি ও সুনির্দিষ্ট কার্যপ্রণালী তৈরি করা হয়েছিল, যাতে টহল দেওয়ার দূরত্ব, সংকেত প্রদান এবং মুখোমুখি অবস্থান এড়ানোর মতো বিষয়গুলি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা ছিল।আরও পড়ুন:
২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার মর্মান্তিক সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে অভূতপূর্ব তিক্ততা ও বৈরী মানসিকতার সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিকে সেই পরিস্থিতির নিরিখে “স্বাভাবিক” বলে অভিহিত করেন বিদেশমন্ত্রী। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা বা অত্যন্ত বৈরী সম্পর্ক ভারত বা চিন—কারোরই দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় স্বার্থ পূরণ করে না। যৌথ স্বার্থেই দুই পক্ষকে একটি কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার পথ বের করতে হবে।