পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: উৎসবের মরশুম শেষ হলেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হতে চলেছে পুরভোটের তৎপরতা। আগামী মাসের শেষের দিকেই কলকাতা এবং হাওড়ায় পুরসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এই আবহে দলের সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করতে এবং নিজের শিবিরের প্রতি অনুগত নেতাদের খোঁজ নিতে জেলায় জেলায় তথ্য সংগ্রহ করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের অন্দরে ভাঙন রোধ করতে এবং প্রকৃত অনুগামীদের চিহ্নিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে দলীয় সূত্রে খবর।


নেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, পুজো মিটলেই রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসতে পারেন তিনি। সেখান থেকেই পুরভোটের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হবে। দলের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কর্মীদের উপর বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এই কঠিন সময়ে দলের কোন কোন নেতা-কর্মী নেত্রীর পাশে রয়েছেন, তার একটি সুস্পষ্ট তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য হলফনামা-সহ বিভিন্ন তথ্য জেলাগুলি থেকে সংগ্রহ করার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
ভবিষ্যতে দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে এবং পুরভোটে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এই তালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কালীঘাট শিবিরের আশঙ্কা, উপযুক্ত নিরাপত্তা না দিলে বিরোধী শিবির প্রশাসনিক চাপ তৈরি করে দলের প্রার্থীদের ভাঙিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই নির্বাচনের ময়দানে নেমে কোনও ফাঁকফোকর রাখতে চাইছে না শাসকদল। এদিকে, দলীয় কর্মীদের এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবার বিজয়া দশমীতেও কিছুটা সংযত ছিলেন মমতা। কালীঘাটের বাড়ির বাইরে রাস্তায় বেরিয়ে সাধারণ মানুষকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানালেও, প্রথা অনুযায়ী মিষ্টিমুখের আয়োজনে তিনি অংশ নেননি।