পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, আইআইটি বম্বের দলিত ছাত্র সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মোমবাতি হাতে জমায়েত হয়েছিলেন পড়ুয়া ও অধিকারকর্মীরা। কিন্তু সেই জমায়েত ঘিরেই পুলিশের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়া, জোর করে আটক এবং মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগ উঠল। রবিবার, ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের দাদরের চৈত্যভূমি এলাকায় এই ঘটনায় কৌতুকশিল্পী মাসুম রাজওয়ানি-সহ প্রায় ২০-২৫ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, অনুমতি ছাড়া মিছিল করার কারণেই এই পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন:
সাহিলের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিকেল সাড়ে ৫টায় মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল প্রগ্রেসিভ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (পিএসইউ)। গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইআইটি বম্বের হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল দ্বিতীয় বর্ষের বিটেক পড়ুয়া সাহিলের দেহ। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য ও হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন সাহিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইনের ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা ও আইআইটি বম্বের অধিকর্তা শিরীষ কেদারে জাতপাতের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন:
প্রতিবাদীদের অভিযোগ, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ও ৭টা নাগাদ দু’দফায় আটক অভিযান চালায় পুলিশ। ‘আমচি পড়াই আমচি লড়াই’-এর তেজস অনুপের দাবি, কারও কাছে মোমবাতি রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়ে পড়ুয়াদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। যাঁদের হাতে পোস্টার ছিল অথবা যাঁদের প্রতিবাদী বলে সন্দেহ করা হয়েছিল, তাঁদের আটক করা হয় বলে অভিযোগ। প্রায় ৬০-৭০ জন পুলিশকর্মী ঘটনাস্থলে ছিলেন বলেও দাবি তাঁর। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মহিলারাও ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন:
কৌতুকশিল্পী মাসুম রাজওয়ানি জানান, সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ তিনি সেখানে পৌঁছেছিলেন। তাঁর দাবি, রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কোনও মিছিল শুরু হয়নি, মোমবাতিও জ্বালানো হয়নি। এক মহিলাকে আটক করার প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় বলে অভিযোগ তাঁর। রাজওয়ানির দাবি, চার পুলিশকর্মী তাঁকে হাত-পা ধরে তুলে নিয়ে যান।
এতে তাঁর শরীরে আঁচড় লাগে। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা আটক ব্যক্তিদের জানানো হয়নি এবং যাত্রাপথে জলও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের ও চিকিৎসা পরীক্ষার কথাও ভাবছেন তিনি।আরও পড়ুন:
আকল্যা নামে এক প্রতিবাদীর অভিযোগ, সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ চৈত্যভূমির কাছে ছবি তোলার সময় চার পুলিশকর্মী তাঁকে একটি গাড়িতে তুলে নেন। কেন তাঁকে আটক করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সাময়িকভাবে তাঁর ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। দীপালি নামে আর এক অংশগ্রহণকারীর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন তাঁরা, কোনও আইন ভাঙেননি। পুলিশের আচরণ অন্যায় বলে অভিযোগ তাঁর। পুলিশ অবশ্য এই হেনস্থার অভিযোগগুলির জবাব দেয়নি।
আরও পড়ুন:
‘হুম ভারত কে লোগ’-এর আলি ভোজানি প্রশ্ন তুলেছেন, নাগরিকদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শান্তিপূর্ণ জমায়েত করলে পুলিশ কেন এমন আচরণ করবে?
তাঁর অভিযোগ, প্রতিবাদীদের এমনভাবে দেখা হয়েছে, যেন তাঁরা সন্ত্রাসবাদী বা খুনি। সিজেপির সাহিল পারসেকরও চৈত্যভূমির গুরুত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, আম্বেদকরপন্থী মানুষের কাছে এই স্থান সমতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। ছাত্রছাত্রীরা শোক জানাতে ও বিচারের দাবি তুলতে একত্র হলে তাঁদের ভয় দেখানো বা আটক করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।আরও পড়ুন:
এদিকে, সাহিলের মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন বৈভব ইয়াল্লাল। তাঁর অভিযোগ, এটি প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা বা নিপীড়নের গুরুতর ঘটনা; তদন্তে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। অন্য দিকে, দেশের ৮৪টি সংগঠন আইআইটি বম্বের অধিকর্তা শিরীষ কেদারের পদত্যাগ দাবি করে খোলা চিঠি দিয়েছে। সাহিলের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানের বিবৃতিতে পরীক্ষায় অনিয়মের প্রসঙ্গ তোলার সমালোচনা করেছে সংগঠনগুলি। অভিযুক্ত অধ্যাপকের প্রতি শিক্ষকদের একটি সংগঠনের প্রকাশ্য সমর্থন এবং সংবাদমাধ্যমে পরীক্ষাকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ বেছে বেছে প্রকাশ করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।
আরও পড়ুন:
চিঠিতে আইআইটি কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সমালোচনা করে বলা হয়েছে, সাহিলের মৃত্যুর পরের ঘটনাপ্রবাহে জাতপাতভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগের মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আম্বেদকর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন-সহ বিভিন্ন ছাত্র, শিক্ষক ও নাগরিক অধিকার সংগঠন এই দাবিতে সামিল হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এর আগে ১৮ অক্টোবর আইআইটি বম্বেতে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের আটক করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের ল্যাপটপ, ওষুধ ও হস্টেলের চাবি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি তেজস অনুপের।