পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মক্কায় এক বাংলাদেশি যুগলের চুম্বনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের খবর বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলেছে। এর পাশাপাশি চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের বলরামপুর গ্রামের একটি পরিবার। কারণ, যে যুবক এই ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে আপলোড করে ভাইরাল করেছিলেন, তিনি হলেন এই গ্রামেরই বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন শেখ। গত ৮ বছর ধরে পরিবারের একমাত্র রোজগেরে হিসেবে সৌদি আরবে কর্মরত সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে সেখানকার জেলে বন্দি।


জানা গিয়েছে, সাহাবুদ্দিন ও ওই বাংলাদেশি যুগল মক্কায় সাফাইয়ের কাজ করতেন। নিছক মজার ছলে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল বলে জানালেও, এর পরিণতি যে এত ভয়াবহ হবে তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি ওই যুবক। এই ঘটনার জেরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। তবে সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনূর বিবির দাবি, তাঁর ছেলে বড় কোনও অপরাধ করেনি।
এক পাকিস্তানি যুবক সাহাবুদ্দিনের মোবাইল কেড়ে নিয়ে ওই যুগলের ভিডিওটি রেকর্ড করেছিল এবং পরে তা আপলোড করে দেওয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, আসল দোষী না হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ছেলেকে এত কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশি যুগলের শিরশ্ছেদের খবর শোনার পর থেকেই সাহাবুদ্দিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র আশঙ্কায় ভুগছেন তাঁর মা-বাবা। ছেলেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার আশায় ইতিমধ্যেই দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পরিবার। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সাড়া না মেলায় তাঁদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কর্মরত মুর্শিদাবাদের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও জানিয়েছে, নিছক মজা করতে গিয়েই এমন মর্মান্তিক পরিণতির মুখে পড়তে হয়েছে বাংলার এই যুবককে।