যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর বক্তব্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য জোরদার করেই মুসলিম দেশগুলির নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই লক্ষ্য পূরণে আঞ্চলিক দেশগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করতে তেহরান প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এই মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত ছিলেন। ইরানের পক্ষে বৈঠকে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং অঞ্চলটিকে বিভক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কথিত প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, ঐক্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গাজা, লেবানন ও ইরান-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইজরায়েলের সামরিক হামলারও নিন্দা জানান পেজেশকিয়ান। তাঁর বক্তব্য, আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলিম দেশগুলিকে একসঙ্গে উদ্যোগী হতে হবে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও বৈঠকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন প্রেসিডেন্ট।

তাঁর দাবি, পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনও পরিকল্পনা ইরানের নেই। তবে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির আওতায় শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তেহরানের রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, ওয়াশিংটন একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরান ও দেশটির পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এই অবস্থানকে পরস্পরবিরোধী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের এই বৈঠক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে মুসলিম দেশগুলির মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার বিষয়ে ইরানের এই আহ্বান বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।