পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১৩০ জনের বেশি। শনিবার আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে ফ্লোরেস দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধসে পড়েছে বাড়িঘর ও বিভিন্ন অবকাঠামো। ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজও ব্যাহত হচ্ছে।


ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার (বিএনপিবি) তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিরাপদ স্থানে ও স্থানীয় একটি স্টেডিয়ামে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত এলাকা থেকে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর আহতদের অনেকের হাড় ভেঙে যাওয়াসহ গুরুতর আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য তাঁবু, খাবার, পানি, কম্বল, জেনারেটর ও স্বাস্থ্যবিধিসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

ভূমিকম্পে মাউমেরে গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দরের ভবনের ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ায় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর প্রায় এক হাজারটি আফটারশক রেকর্ড হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
এদিকে ভূমিধসের কারণে ট্রান্স-ফ্লোরেস মহাসড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ছেন উদ্ধারকারীরা।

নিখোঁজদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দিতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আফটারশকের ঝুঁকি থাকায় উদ্ধারকাজের পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।