স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই রবিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘দিমাগি নকশাল’ বলতে কাদের বোঝানো হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
রিজিজুর দাবি, প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের উদ্দেশে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেননি। তাঁর মতে, তিন ধরনের মানুষকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলা হয়েছে—যাঁরা মাওবাদীদের সমর্থন করেন এবং সংবিধান মানেন না, যাঁরা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন করেন বা ৩৭০ ধারার পক্ষে অবস্থান নেন এবং যাঁরা ‘চিকেনস নেক’ বিচ্ছিন্ন করে উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের বাকি অংশ থেকে আলাদা করার কথা বলেন।
আরও পড়ুন:
এর আগে লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদী বলেছিলেন, সশস্ত্র মাওবাদীদের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পাওয়া গেলেও সমাজে এখনও কিছু ‘দিমাগি নকশাল’ সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে সমাজে অশান্তি ও বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
মোদীর এই মন্তব্যের পরই বিরোধীদের একাংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, ‘দিমাগি নকশাল হতে পেরে গর্বিত।’আরও পড়ুন:
বিরোধীদের অভিযোগ, সমালোচকদের নিশানা করতে বিজেপি অতীতেও ‘আরবান নকশাল’, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’, ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বা ‘আন্দোলনজীবী’-র মতো শব্দ ব্যবহার করেছে। এবার ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধও সেই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলে দাবি তাদের।
আরও পড়ুন:
তবে রিজিজুর বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই মন্তব্য নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত অবস্থানের বিরুদ্ধে, সরাসরি বিরোধী দলগুলিকে লক্ষ্য করে নয়। ফলে ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধটি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা আরও জোরালো হয়েছে।