পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রবিবার বিকেলে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা যোজনা 'আয়ুষ্মান ভারত' চালু হল। একইসঙ্গে যাঁরা কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পের আওতায় পড়বেন না, তাঁদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে 'মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা'র সূচনা করা হয়েছে। এই দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া পটেল।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি মানুষ।
সত্তরোর্ধ্ব প্রত্যেক রাজ্যবাসী এই সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার আওতায় আসবেন আরও ৮০ লক্ষ মানুষ। এই দুই প্রকল্পের গ্রাহকরা সারা দেশের মোট ৩৮,৬০৪টি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। আগে পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ১৭০০টি রোগের চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও, নতুন এই জোড়া বিমায় মোট ১৯৫০ ধরনের রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাবে। এর মধ্যে অন্যতম বড় সুবিধা হল হাঁটু প্রতিস্থাপন।আরও পড়ুন:
আগের জমানায় অনিয়মের জেরে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুবিধা ব্যাহত হলেও, নতুন জোড়া স্বাস্থ্যবিমায় তা পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হল।
চিকিৎসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সুলভ মূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দিতেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে হিন্দুস্তান লাইফ কেয়ার লিমিটেডের সঙ্গে রাজ্যের একটি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
রাজ্যের চিকিৎসক মহল এবং নার্সিংহোম সংগঠনগুলি সরকারের এই জোড়া স্বাস্থ্যবিমা চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এর ফলে রাজ্যের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া গরিব মানুষ অত্যন্ত উপকৃত হবেন। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম সংগঠনের সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে জানান, এর ফলে সাধারণ মানুষ ভিনরাজ্যে গিয়েও নিজেদের প্রয়োজনমতো চিকিৎসা করাতে পারবেন। পাশাপাশি, অমৃত ফার্মাসিতেও গুণগত মানের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন।