পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সাপের কামড়ের পর বিষের প্রভাবে ভাই যখন ঢুলে পড়ছিল, তখন তাঁর জ্ঞান (চেতনা) ধরে রাখতে পরপর চড় মেরে চললেন দাদা। কোনো রাগ বা ক্ষোভ থেকে নয়, ভাইকে বাঁচিয়ে রাখার চরম আকুতি থেকেই এক ঘণ্টার মধ্যে ভাইকে দেড়শোবারেরও বেশি চড় মারেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে নেওয়া এই অস্বাভাবিক পদক্ষেপের পর অবশেষে প্রাণ বেঁচেছে ওই তরুণের। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের হরদোই জেলার গ্রামীণ কোতোয়ালি এলাকার জ্যোতি নগরে।


 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২১ বছর বয়সী তরুণ অরুণ তাঁর বড় দাদা আকাশের জমিতে ফসলে জল দিতে গিয়েছিলেন। দুপুর আনুমানিক ২টোর দিকে খেতের একটি খড়ের বস্তা তুলতে গেলে ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি বিষধর সাপ তাঁকে কামড় দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই অরুণের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। বিষের প্রভাবে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে আকাশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

 
মেডিকেল কলেজে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা দ্রুত অরুণের চিকিৎসা শুরু করেন। মেডিকেল টিমের চিকিৎসকরা জানান, সাপের বিষ ইতিমধ্যেই তাঁর স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছিল। ফলে অরুণ চরম তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিলেন এবং বারবার চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল। চিকিৎসকরা তাঁর পরিবারকে নির্দেশ দেন, চিকিৎসা চলাকালীন যেকোনো মূল্যে অরুণকে জেগে রাখতে হবে এবং কিছুতেই অচেতন হতে দেওয়া যাবে না।
চিকিৎসকদের সেই পরামর্শ পেয়েই অরুণের পাশে বসে যান বড় দাদা আকাশ। অরুণ চোখ বুজে মূর্ছিত হতে গেলেই তিনি তাঁর মুখে চড় মারতে শুরু করেন। ভাইকে সচেতন রাখতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে টানা ১৫৫০টিরও বেশি চড় মারেন তিনি।
 
অরুণের বিষের তীব্রতা ও শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে চিকিৎসকরা তাঁকে পরপর ১৫টি অ্যান্টি-ভেনম ইনজেকশন দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষ শরীরের অনেকটা অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। তবে সঠিক সময়ে প্রতিষেধক প্রদান এবং দাদার নিরলস প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ওই তরুণ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।