পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দিল তার নিজের পরিবার। মঙ্গলবার সকালে পুলিশের কাছ থেকে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রহ্লাদের মা রেখা দাস। তবে মাতৃহৃদয় কাঁদলেও এক সচেতন নাগরিকের মতোই তিনি বলেন, "ছেলে অন্যায় করেছে, তাই উপযুক্ত সাজা পেয়েছে।" ঠাকুরনগর গ্রামীণ হাসপাতালে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, নিজের ছেলেকে তিনিই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
মা হিসেবে কষ্ট হলেও সমাজের স্বার্থে পুলিশের এই পদক্ষেপে তিনি খুশি। তাঁর মতে, এই কঠোর সাজার ফলে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করতে ভয় পাবে। একই সুর শোনা গিয়েছে অভিযুক্তের বাবা রামপ্রসাদ দাসের গলাতেও। ময়নাতদন্তের জন্য ছেলের দেহ নিয়ে বারাআরও পড়ুন:
সত মহকুমা হাসপাতালে যাওয়ার পথে তিনি জানান, পুলিশ একদম সঠিক কাজ করেছে।
অন্যদিকে, দাদার এমন ভয়ংকর কীর্তির কথা জানতে পেরে হতবাক ভাই ধ্রুব দাস। তিনি জানান, এমন নারকীয় কাণ্ড ঘটানোর পর রাতে নিশ্চিন্তে বাড়িতে এসে ঘুমিয়েছিল প্রহ্লাদ, সকালে পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।অন্যদিকে, রবিবার সকালে নাবালিকার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিল তার পরিবার। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে কার্যত অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। মানসিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আপাতত তাঁরা বাপের বাড়িতে রয়েছেন। তবে মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই তাঁদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফেরে। চোখের জল মুছতে মুছতে নাবালিকার মা জানান, মেয়ে হারানোর শূন্যতা কোনওদিন পূরণ হওয়ার নয়, তবে দোষীর মৃত্যু হওয়ায় তিনি কিছুটা শান্তি পেয়েছেন। তাঁর কথায়, "যে আমার কোল খালি করেছে, তার মৃত্যুই আমি চেয়েছিলাম।" এদিন নাবালিকার মামাও জানান, ঘটনার পর থেকে শোকে বাড়িতে হাঁড়ি চড়েনি। তবে দোষীর মৃত্যুর খবরে স্বস্তি পেয়ে দীর্ঘক্ষণ পর আজ বাড়িতে রান্নাবান্না হচ্ছে। পুলিশের এই পদক্ষেপে তাঁরা সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।