পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ার পর এবার ডিজিটাল মিডিয়াতেও রাশ টানতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মোদি সরকারের প্রস্তাবিত ‘ব্যক্তিগত ডিজিটাল তথ্য সুরক্ষা আইন’ নিয়ে প্রবল আশঙ্কায় রয়েছে সংবাদমাধ্যমের একাংশ। এই আইনের বিরোধিতা করে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ২১টি সংবাদমাধ্যম। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আবেদনকারী সংস্থাগুলির মধ্যে গৌতম আদানি এবং মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থাও রয়েছে।
আগামী বছরের শুরুতেই এই নতুন আইন কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র।

ইতিমধ্যেই সংসদে এই সংক্রান্ত বিলও পেশ করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখেই ভুয়ো খবর নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে এই আইন আনা হচ্ছে। তবে ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, প্রস্তাবিত এই আইনটি ঘুরপথে সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করারই একটি কৌশল, যা সরাসরি সংবিধানের ১৪ এবং ১৯(১)(এ) ধারার পরিপন্থী। তাদের অভিযোগ, ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা এশিয়ার অনেক দেশের আইনেই সংবাদমাধ্যমের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া থাকে। কিন্তু ভারতের এই প্রস্তাবিত আইনে সংবাদমাধ্যমগুলিকে আলাদা করে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি।

২০২১ সালে সোশ্যাল মিডিয়া আইন আনা হলেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা ভেবে ডিজিটাল মিডিয়াকে তার আওতায় রাখা হয়নি। তাই গত বছর ব্যক্তিগত ডিজিটাল তথ্য সুরক্ষা আইনে নতুন করে সংশোধনী আনে সরকার। তবে সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, আগামী বছর এই আইন চালুর আগে এর আপত্তিকর ধারাগুলি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। যে ২১টি সংস্থা শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে, তার মধ্যে এনডিটিভি এবং সিএনএন-নিউজ ১৮-এর মতো সংস্থাও রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই দুটি সংবাদ সংস্থার সিংহভাগ মালিকানাই রয়েছে দেশের দুই শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি আদানি ও আম্বানির হাতে।