উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : পড়ুয়াদের মেধার বিকাশ, জ্ঞানচর্চা ও চিন্তাশক্তির প্রসারে মঙ্গলবার থেকে সারা রাজ্যের সাথে জয়নগরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন পর্ষদের মেধা (বৃত্তি) পরীক্ষা ২০২৬। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই পরীক্ষাকে ঘিরে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।১৯৯২ সালে ড: সুশীল মুখার্জির উদ্যোগে এই বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়।চারদিন ধরে চারটি বিষয়ে একাধিক পরীক্ষা কেন্দ্রে চতুর্থ শ্রেনীর পড়ুয়াদের নিয়ে এই পরীক্ষা শুরু হয় মঙ্গলবার। শুক্রবার পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলবে।

জয়নগর বিধানসভা এলাকার একাধিক  পরীক্ষাকেন্দ্রে বিভিন্ন স্কুলের  পড়ুয়ারা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।মঙ্গলবার  জয়নগর ইনস্টিটিউশন, জয়নগর পিসি পাল স্কুল, বহড়ু হাইস্কুলে এই মেধা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের অংশগ্রহণে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে উৎসাহ ও উদ্দীপনার পরিবেশ তৈরি হয়।উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের মেধা বিকাশ এবং তাদের জ্ঞান ও দক্ষতার মূল্যায়নের উদ্দেশ্যেই এই পরীক্ষার আয়োজন। আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে শিশুদের মেধা ও উৎকর্ষ যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনার মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে পড়ুয়াদের সাধারণ জ্ঞান, যুক্তিবোধ, চিন্তাশক্তি এবং নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিশুদের জ্ঞানচর্চার পরিধি বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের জন্য তাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলাই এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।এদিনের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পড়ুয়াদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও যথেষ্ট উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যালয়ের গণ্ডির বাইরে নিজেদের জ্ঞান ও মেধা যাচাই করার সুযোগ পেয়ে খুশি পরীক্ষার্থীরাও।উদ্যোক্তাদের আশা, এই ধরনের মেধা  পরীক্ষা পড়ুয়াদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলার পাশাপাশি পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করবে। আগামী দিনেও ছাত্রছাত্রীদের মেধা বিকাশ ও জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।