পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কেরালায় এক নাবালকের বেপরোয়া মার্সিডিজ বেনজ গাড়ির ধাক্কায় এক পথ-খাবার বিক্রেতার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় অবশেষে অভিযুক্তের বাবা তথা এক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করল কোচি সিটি পুলিশ। এর পাশাপাশি পুরো ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ করে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে কেরালা হাই কোর্ট।
আরও পড়ুন:
বিচারক নাম রিনো ফ্রান্সিস বর্তমানে ইরিঞ্জালাকুডার 'মোটর অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল'-এর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক পদে কর্মরত। তাঁর ১৭ বছর বয়সি নাবালক ছেলের চালানো বিলাসবহুল গাড়ির আঘাতেই প্রাণ হারান পথ-ব্যবসায়ী জয়বালকৃষ্ণন।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার গভীর রাতে কোচির চেরানাল্লুরের কাছে ১৭ বছরের ওই নাবালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রচণ্ড গতিতে থাকা মার্সিডিজ গাড়ি নিয়ে জয়বালকৃষ্ণনের দু'চাকার গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। আইন অনুযায়ী, নাবালকের অন্যায়ের দায় অভিভাবকের ওপর বর্তায়। সেই ভিত্তিতে বিচারক রিনো ফ্রান্সিসের বিরুদ্ধে মোটোর ভেহিক্যাল অ্যাক্টের ১৯৯এ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এই ধারায় কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক গাড়ি চালিয়ে অপরাধ করলে গাড়ির নিবন্ধিত মালিক বা অভিভাবককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
আরও পড়ুন:
একজন বিচারকের নাবালক সন্তানকে এভাবে সহজেই ছেড়ে দেওয়ায় নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় একাধিক যুব সংগঠন ব্যাপক প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। জনরোষের মুখে পুলিশ নিজেদের অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ নম্বর ধারা—যা ‘অনিচ্ছাকৃত খুন’ হিসেবে গণ্য হয়—সংযোজন করা হয়। এরপর নাবালককে পুনরায় আটক করে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে পেশ করা হলে বোর্ড তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন প্রদান করে।
আরও পড়ুন:
এদিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় একজন কর্মরত বিচারকের গাড়ি ও তাঁর নাবালক সন্তানের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসতেই স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নিয়েছে কেরালা হাই কোর্ট।